আগের রাতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মিডিয়া ম্যানেজারের খুদেবার্তা বিজয় দিবস স্কোয়াশের সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হয়ে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে যাবেন সভাপতি তাবিথ আউয়াল। স্কোয়াশের সঙ্গে তাবিথের যোগসূত্র সেভাবে নেই। লন্ডন থেকে আজ ঢাকায় পা রাখবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাবিথ নিজেও এই রাজনৈতিক দলের একজন সক্রিয় নেতা। তারপরও বিজয় দিবস স্কোয়াশের টাইটেল স্পন্সর অ্যাকুয়া পেইন্টের শীর্ষ কর্তার অনুরোধে ব্যস্ততার মধ্যেও সময় মতো উপস্থিত হলেন বাফুফে সভাপতি। বড় একটা সময় সমাপনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতাও সারলেন। এরপর অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যাওয়ার আগে সময় দিলেন অপেক্ষমাণ ক্রীড়া সাংবাদিকদের। চাপান-উতরের এক পর্যায়ে দিলেন সুখবর কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে বাফুফে এক্সিলেন্স সেন্টার স্থাপন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। তাবিথ বলেছেন, নির্দিষ্ট স্থানে ফিফার বেঁধে দেওয়ার সময়ের মধ্যেই শুরু হবে সেন্টারের নির্মাণকাজ।
ফিফার শর্ত ছিল ২০২৫ সালে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি নির্মাণকাজ শুরু না হয়, তবে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে। সরকারের কাছে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন আগে আবেদন করেছিল বাফুফে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগরে ১৫ একর জমি বাফুফেকে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। তবে বাফুফে জানত, বিনামূল্যেই সরকার সে জমি দেবে তাদের। তবে নিয়ম বদলে যাওয়ায় খাসজমি বরাদ্দ পেতে বাফুফেকে দিতে হবে ৮ কোটি টাকা। এ নিয়েই তৈরি হয় জটিলতা। এদিকে ফিফাও দিয়েছে সুখবর। ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাওয়া সময়সীমা তিন মাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে কাজ এখন অনেকটাই সহজ হওয়ার কথা। তাবিথ অবশ্য জানিয়েছেন আগের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই সব বাধা উতরে কক্সবাজারে শুরু হবে নির্মাণকাজ, ‘কক্সবাজারের জায়গা বরাদ্দের বিষয়টি একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছে। আমরা সরকার থেকে ইতিবাচক চিঠি পেয়েছি। সামান্য একটি বিষয়ে একটু সমস্যা আছে, যা আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী। আমি নিশ্চিত করতে পারি যে কক্সবাজারে আমাদের এলিট ট্রেনিং সেন্টার হবে, ফিফার ফান্ড আমরা নিশ্চিত করতে পারব এবং সরকার, ফিফা ও বাফুফে যৌথভাবে এই কাজটি করবে।’
একটা সময় ছিল দেশের অন্যতম ধনী ক্রীড়া ফেডারেশন ছিল ফুটবল। ক্রিকেটসহ অনেক খেলাকেই তখন নানাভাবে সহায়তা করত বাফুফে। অনেক দিন পর অন্য খেলার একটি অনুষ্ঠানে ফুটবলের অভিভাবকের উপস্থিতি। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন গেল, ফুটবল কি তবে নিজের উজ্জ্বল অতীতে ফিরে যাচ্ছে? স্মিত হেসে তাবিথ জবাব দিলেন, ‘দেখুন, আমরা আমাদের ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা নিই এবং শিখি। ছোটবেলায় আমরা নিজেরাও দেখেছি যে বাংলাদেশে একটি স্পোর্টস ফ্রেটারনিটি (ক্রীড়া ভ্রাতৃত্ব) ছিল, যেখানে অনেকগুলো ফেডারেশন একসঙ্গে কাজ করত। আমরা চাচ্ছি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের খেলাধুলায় ফুটবল ফেডারেশন সে রকম একটি ভূমিকা রাখুক। আমি বারবার বলে আসছি যে আমরা অনেকগুলো ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করতে চাই, বিশেষ করে যেখানে আমরা একে অপরের পরিপূরক হতে পারি; যেমন ফিজিওথেরাপি সেন্টার, রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, মেন্টাল স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং এমনকি সরকারের সঙ্গে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও যদি আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারি, সেটিই আমাদের লক্ষ্য হবে।’
২০২৫ সালকে অনায়াসেই ফুটবলের বাঁক বদলের বছর বলা যায়। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের আগমনে ছেলেদের ফুটবলে মিলেছে ইতিবাচক সাড়া। আর নারী ফুটবল পৌঁছে গেছে অন্য উচ্চতায়, নাম লিখিয়েছে এশিয়ান কাপের মতো এলিট আসরে। ২০২৫ সালকে নিজেদের জন্য ভীষণ ইতিবাচক মানলেও তাবিথ মনে করেন ফুটবলকে এগিয়ে নিতে আরও অনেক কাজ বাকি, ‘আমি মনে করি ২০২৫ সাল ফুটবলের জন্য একটি খুব ভালো শুরু। আমরা অনেক নতুন কিছু দেখেছি, বিশেষ করে ই-স্পোর্টস, ফুটসাল, এশিয়া কাপে ছেলেদের ভালো পারফরম্যান্স এবং মেয়েদের কোয়ালিফিকেশন। তবে আমাদের যাত্রার অনেক পথ এখনো বাকি। আমাদের জেলাগুলোতে খেলা শুরু করতে হবে, ঘরোয়া লিগের মান আরও শক্তিশালী করতে হবে। অনেক খেলোয়াড়ের পেশাদার আর্থিক অবস্থা এখনো বেশ খারাপ, আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে। তাই আমার মনে হয় শুরুটা খুব ভালো হয়েছে এবং এই শুরু থেকে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে আমরা আরও ভালো করতে পারব।’
বাফুফে সভাপতি আশ^স্ত করেছেন, জাতীয় স্বার্থে যারা ফুটসাল দলে খেলছেন তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। ছেলেদের দলও খেলবে সাফের ফুটসাল আসরে। তাবিথ দুটি আসরেই ভালো কিছু প্রত্যাশ করে বলেন, ‘দেখুন, যে কোনো দল নারী, পুরুষ বা বয়সভিত্তিক আমরা মাঠে নামালে জয়ের প্রত্যাশা করি। আর ফুটসাল এবং নারী লিগের মধ্যে আমরা কোনো পার্থক্য করি না; সবাই দেশের জন্য খেলছে। যারা লিগে খেলবে তারা পেশাদার হিসেবে শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে। আর যাদের মনে করি জাতীয়ভাবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত, তাদের আমরা ডেকেছি। এতটুকু বলতে পারি যে নারী লিগ চালু হতে যাচ্ছে এবং ফুটসালে যারা খেলবে তারা সবাই পেশাদার এবং তাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তারা পারিশ্রমিক পাবে।’