মতলব উত্তর নতুন শিক্ষাবর্ষ

প্রাথমিকে শতভাগ, মাধ্যমিকের এল অর্ধেক বই

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র ছয়দিন বাকি। অথচ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মাধ্যমিকের প্রায় ৫৩ শতাংশ পাঠ্যবই এখনও উপজেলা শিক্ষা অফিসে পৌঁছায়নি। ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে পাবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৭ম ও ৮ম শ্রেণির বইয়ের সংকটের পড়তে যাচ্ছে এই উপজেলা। তবে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই নিয়ে কোনো সংকট নেই।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্টরা জানায়, উপজেলায় প্রাথমিকের চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। ফলে বছরের শুরুতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সব পাঠ্যবই হাতে পাবে। কিন্তু মাধ্যমিকের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কোনো বই এখনও আসেনি।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই সংগ্রহে ব্যস্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। আর এই বই বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছেন উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য চাহিদার শতভাগ বই এসেছে। এর আওতায় উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭১টি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ১ লাখ  ৬৮ হাজার ৩৮টি বই বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে বই সরবরাহ সন্তোষজনক হওয়ায় শিক্ষকেরা বই উৎসব নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন। তবে মাধ্যমিক স্তরে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি), মাদরাসা, ইবতেদায়িসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের জন্য চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৮০৬টি বই। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৭ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছেছে। প্রাপ্ত বইয়ের মধ্যে যষ্ঠ ও নবম শ্রেণির আংশিক বই পাওয়া গেলেও সপ্তম-অষ্টম শ্রেণির কোনো বই এখনও আসেনি।

এতে বছরের প্রথমদিন শিক্ষার্থীরা সব নতুন বই হাতে পাবে কি না তা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, মাধ্যমিকের সব বই এখনও আসেনি এটা সত্য। তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন বইয়ের ট্রাক আসছে। আমরা আশা করছি, বই উৎসবের আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বই চলে আসবে। যেসব বই এখনও আসেনি, সেগুলো দ্রুত সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলে জানান তিনি।