ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রাসনোদার ক্রাইয়ের টেমরিউক বন্দরের তেল সংরক্ষণ ট্যাংক এবং ওরেনবুর্গ অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্মকর্তা ও রুশ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়ার আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে টেমরিউক বন্দরে ড্রোন হামলার পর দুটি তেলপণ্য সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। আজভ সাগরের তীরে অবস্থিত এই বন্দরটি তেল ও তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আগুন প্রায় দুই হাজার বর্গমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় সত্তর জন কর্মী কাজ করেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেনের এসবিইউ (এসবিইউ) নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাতকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, এসব হামলায় রাশিয়ার বাজেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমছে এবং সেনাবাহিনীর জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
রুশ-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার সীমানা ঘেঁষা এবং আজভ ও কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত ক্রাসনোদার ক্রাই রুশ সেনাদের রসদ সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হওয়ায় এর আগেও একাধিকবার ইউক্রেনের ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে একই জেলার তামাননেফতেগাজ তেল টার্মিনালে ড্রোন হামলায় পাইপলাইন, জেটি ও জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে টেমরিউকের একটি এলএনজি টার্মিনালেও হামলার পর টানা তিন দিন আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের ড্রোন অভিযান আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।