লিওনেল স্কালোনির দুই ডাকনাম, একটি শুনলেই রেগে যান!

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি সবার কাছে পরিচিত ‘এল গ্রিংগো’ নামে। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই সাফল্যমণ্ডিত পথচলায় এই ডাকনামটি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ের পর তিনি এখন আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তবে স্কালোনির আরও দুটি ডাকনাম আছে, যার একটি শুনলে তিনি আবার বেজায় চটে যান!

সাংবাদিক দিয়েগো বোরিনস্কি রচিত ‘স্কালোনি: অফিসিয়াল জীবনী’ বইয়ে উঠে এসেছে এমনই দুই অজানা ডাকনামের গল্প। কিশোর বয়সে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলার সময় স্কালোনির প্রথম ডাকনাম তৈরি হয়। সে সময়ের কথা স্মরণ করে স্কালোনি বলেন, ‘আমাকে সবাই লিও বলেই ডাকত। পরে নিউয়েলসে আমাকে ডাকতে শুরু করে ‘চাকরা’, কারণ আমরা যারা গ্রাম থেকে আসি, তাদেরকে চাকরা বলা হয়।’

ইউরোপে পাড়ি দিয়ে ডেপোর্তিভো লা কোরুনিয়ায় যোগ দেওয়ার পর স্কালোনির জন্য অপেক্ষা করছিল আরও এক নতুন ডাকনাম, যেটি তার একদমই পছন্দ হয়নি। সেই ডাকনামটি দিয়েছিলেন উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকার সেবাস্তিয়ান আব্রেউ। একবার আব্রেউ বলেছিলেন, ‘ওর (স্কালোনি) দৌড়ানোর ভঙ্গি দেখে আমি ওকে “কাবায়ো” অর্থাৎ, ঘোড়া বলে ডাকতাম। লিওনেল বল সামনে ঠেলে দিয়ে একেবারে ঘোড়ার মতো দৌড়াত। তখনই বলেছিলাম, ও একদম ঘোড়ার মতো।’

এই ডাকনাম শুনে প্রথমে বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন স্কালোনি। আব্রেউ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘শুরুর দিকে ও বলত, “বাদ দাও উরুগুয়ান, চুপ কর।” কিন্তু ড্রেসিংরুম তো এমনই—যেটা অপছন্দ, সেটাই সবাই বেশি করে বলে। শেষ পর্যন্ত লিওনেল সেটা মেনেই নিয়েছিল! নতুন কেউ এলে তাকে আমরা লবণ দেওয়া মাতে (এক ধরনের দক্ষিণ আমেরিকান চা) খাওয়াতাম, কখনো ঠান্ডা মাতে দিতাম। তখন থার্মাল পোশাক ছিল না, তাই কারও সোয়েটার বা রেইন জ্যাকেট লুকিয়ে রাখতাম। বেশিরভাগ মানুষ মজা হিসেবেই নিত, কেউ কেউ আবার রেগে যেত।’

ডেপোর্তিভো লা কোরুনিয়ায় আব্রেউর সময়টা ছিল মাত্র ছয় মাসের। কিন্তু এই অল্প সময়েই স্কালোনির সঙ্গে তার বন্ধন গভীর হয়ে ওঠে। পরে এক ম্যাচে আবার দেখা হলে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে বলে জানান তিনি। আব্রেউ বলেন, ‘এখন নিয়মিত যোগাযোগ না থাকলেও আমাদের মধ্যে আলাদা একটা টান আছে। এত সমালোচনার পরেও স্কালোনি যা যা জিতেছে, তা দেখে আমার খুব আনন্দ হয়।’