এ মৌসুমে নিজের পুরানো রূপে চেনাচ্ছেন আনিসুর রহমান জিকো। তার কৃতিত্বেই গতকাল নিশ্চিত হারের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস। অথচ একটা সময় দলটি জয়ের পথে ভালোভাবেই ছিল। তবে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও বসুন্ধরাকে নিজেদের মাঠে জিততে দেয়নি আবাহনী। উল্টো জিকোর কৃতিত্বে শত্রুর মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়েছে আকাশীদের।
শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচে দুই পরাশক্তির ম্যাচটা শেষ হয়েছে ২-২ ড্রয়ে। বছরের শেষ ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান। কুমিল্লায় তারা ১-১ ড্র করেছে রহমতগঞ্জের সঙ্গে। ড্রয়ে বছর শেষ করেছে ফর্টিস ফুটবল ক্লাবও। মুন্সিগঞ্জে তারা ১-১ ড্র করে ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে। দিনে একমাত্র জয়ের দেখা মিলেছে গাজীপুরে। সেখানে স্বাগতিক পিডব্লিউডিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় বঞ্চিত থাকার পরও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বসুন্ধরা কিংস। অষ্টম রাউন্ড শেষে বসুন্ধরার সংগ্রহ ১৭ পয়েন্ট। ফর্টিস ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট কম নিয়ে তিনে আছে রহমতগঞ্জ। আগের দিনের জয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে চারে বাংলাদেশ পুলিশ। গতকালের ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী পাঁচে। আর মোহামেডান ষষ্ঠস্থানে আছে ৯ পয়েন্ট নিয়ে।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে লিগে প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। আর আবাহনী পয়েন্ট হারিয়েছিল পিডব্লিউডি'র কাছে। গতকাল নিজেদের আঙিনায় ম্যাচের ১৬ মিনিটেই দুই গোলের লিড নিয়েছিল বসুন্ধরা। রাকিব হোসেন ও ইমান্যুয়েল সানডে গোল করেছিলেন। তবে সুলেমান দিয়াবাতে জোড়া গোল করে ম্যাচটা জমিয়ে তোলেন। শেষ দিকে অবশ্য মালির ফরোয়ার্ডের পেনাল্টি রুখে দিয়ে বসুন্ধরাকে টানা দ্বিতীয় হারের লজ্জা থেকে রক্ষা করেন জিকো।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে এগিয়ে যায় কিংস। মাঝ মাঠে ইয়াসিন খানের ভুল পাস পেয়ে যান ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটন গোমেজ। তার থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশে মিতুল মারমাকে পরাস্ত করেন রাকিব হোসেন। ম্যাচের ১৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় স্বাগতিকরা। বক্সের সামনে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ইমান্যুয়েল সানডেকে পাস বাড়িয়েছিলেন ডরিয়েলটন। সানডে এ বল পোস্টে রাখতে সমস্যা হয়নি।
এর পরেই ব্যবধান কমায় আবাহনী। বক্সের মধ্যে মিরাজুল ইসলাম ফাউলে শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বেজে ওঠে। তা থেকে গোল করেন দিয়াবাতে। বিরতির পরপরই আবাহনীকে সমতায় ফেরার দিয়াবাতে। শেখ মোরসালিনের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে ডান দিক দিয়ে পোস্টে ঢুকে পান পায়ের মাপা শটে গোল করেন দিয়াবাতে। ম্যাচের ৭০ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ নষ্ট করেন দিয়াবাতে।