গত দুইদিন ধরে খুলনা অঞ্চলে ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র হিমেল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। ফলে সড়ক ও রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। তীব্র শীতের কারণে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। প্রচণ্ড শীতে তাদের জবুথবু অবস্থা।
এদিকে, খুলনা শিশু হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা এখনও বাড়েনি বলে হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
নগরীর বয়রা মদিনাবাগ এলাকার রিকশাচালক মিলন মোল্লা বলেন, গত দুই দিন ধরে আকাশে সূর্য্যরে দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। যেমন কুয়াশা পড়ছে, সেই সঙ্গে তীব্র শীতে হাত-পা কাঁপছে।
তিনি বলেন, ঘরে স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। রিকশা নিয়ে না বেরুলে খাব কী? কিন্তু তীব্র শীতের কারণে গত দুই-তিন দিন বেশি যাত্রী পাচ্ছি না। ফলে আয়-রোজগার কমে গেছে।
নগরীর সবুজ পল্লীর মেজরের মোড়ের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন ভ্যানচালক মজিবর গাজীসহ কয়েকজন। মজিবর গাজী বলেন, শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ভ্যান চালিয়েছি। রবিবার বেশি ঠাণ্ডা পড়ছে। মনে হচ্ছে, শীতে হাড়ে কাঁপন ধরেছে। যার কারণে গাড়ি (ভ্যান) বের করিনি।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর সাতরাস্তা মোড়ে ‘মানুষ বেচাকেনা’র হাটে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা খুবই কম। দু-একজন যারা বসেছিলেন, তাদেরও কেউ কিনতে আসেনি।
রমজান আলী নামের একজন দিন মজুর বলেন, সকাল হওয়ার আগে আইসে ঠাণ্ডার মধ্যি বইসে আছি, দুই-তিন ঘণ্টা চইলে গেল কেউ কিনতি আসল না। বিক্রি না হলি বাড়ি চাল নিয়ে যাতি পারব নানি।
বেলা ১১টার দিকে নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখ যায়, তখনও অধিকাংশ দোকানপাট খোলেনি। তবে শীত পোশাকের দোকানগুলো ৯টার পর খুলেছে।
রেলওয়ে বিপণী বিতানের দোকানার আফজাল হোসেন বলেন, দুদিন ধরে বিক্রি ভালো। গতকাল শনিবার ৩০ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি করেছি। আজ হয়তো আরও বেশি টাকার মাল বিক্রি করতে পারব।
এদিকে, খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ জানান, শীতবাহিত রোগে এখনও উল্লেখযোগ্য রোগী ভর্তি হয়নি। তবে শীতের প্রকোপ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে জ্বর, সর্দিসহ পানিবাহিত রোগী বাড়বে। শীতে শিশুদের প্রতি যত্নবান হওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, রবিবার খুলনায় ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বাতাসের কারণে শীত কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, রাতে তাপমাত্রা আরো নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।