সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক-এর ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক–এর ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আজ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, কোম্পানির সাধারণ সদস্যগণ এবং ঝঐঘ-এর শীর্ষ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক–এর ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও টেকসই অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সভায় জানানো হয় যে, দাতা সংস্থার সহায়তা বন্ধ হওয়া, নতুন ভ্যাট আরোপ, করের চাপ বৃদ্ধি এবং অস্থায়ী স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। 

বোর্ডের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক রুবিনা হামিদ জানান, উক্ত অর্থবছরে ক্লিনিক পর্যায়ে ব্যয় পুনরুদ্ধার বেড়ে ৯০ শতাংশে এবং নেটওয়ার্ক পর্যায়ে ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, জুন ২০২৫-এর পারফরম্যান্স অনুযায়ী ২১টি ক্লিনিক স্বতন্ত্রভাবে শতভাগ বা তার বেশি ব্যয় পুনরুদ্ধার অর্জন করেছে, যা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি বিরল সাফল্য। একই সঙ্গে প্রায় ৩৫টি ক্লিনিক ধারাবাহিকভাবে উন্নত কার্যক্ষমতা বজায় রেখেছে। গত পাঁচ বছরের বিনিয়োগ ও তদারকির ফলে দীর্ঘদিন অবহেলিত ক্লিনিকগুলোতে নতুন করে প্রাণ ফিরে এসেছে এবং সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। ক্লিনিক ও ঔষধ বিক্রয় কার্যক্রম মিলিয়ে মোট রাজস্ব ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে ঔষধ বিক্রয় থেকে আয় বেড়েছে আটত্রিশ শতাংশ। যদিও ক্লিনিক সেবা থেকে আয়ে সামান্য হ্রাস ঘটেছে, তা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে ক্লিনিক হস্তান্তরের ফল, কোনও ক্লিনিক বন্ধ হওয়ার কারণে নয়।

সভায় আরও জানানো হয় যে, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ হাতে-কলমে পরিচালিত ব্যবস্থাপনা থেকে একটি সমন্বিত, নিরাপদ ও তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরিত হয়েছে, যা স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। 

এ সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা পারভীন বলেন, ২০২৪–২৫ অর্থবছর সূর্যের হাসির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যাকে তিনি ‘কামব্যাক ইয়ার’ বা ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে দাতা সংস্থার অনুদান বন্ধ হওয়ার পর পরিচালনা পর্ষদের দৃঢ় সমর্থনে ম্যানেজমেন্ট টিম দুটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করেছে। প্রথম লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব ক্লিনিককে আর্থিকভাবে টেকসই করে তোলা, যা নতুন ভ্যাট আরোপ, করের চাপ বৃদ্ধি, অস্থায়ী স্থাপনায় পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিয়মিত উচ্ছেদের অভিজ্ঞতা বা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অর্জিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুন ২০২৫-এর পারফরম্যান্স অনুযায়ী ২১টি ক্লিনিক উদ্বৃত্ত অর্জন করায় দাতা সহায়তা ছাড়াই নেটওয়ার্কের একটি অংশের ব্যবস্থাপনা ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে। এত বছর ধরে স্থায়ী অবকাঠামো বা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ছাড়াই অস্থায়ী প্রকল্প হিসেবে এসব ক্লিনিক পরিচালিত হওয়ার বাস্তবতায় এখন পরবর্তী লক্ষ্য হলও ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা, যাতে সূর্যের হাসি ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই যাত্রা নিশ্চিত হয় এবং জনগণের জন্য মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা ধারাবাহিকভাবে প্রদান করা যায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি পরিচালনা পর্ষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।