গোল করে রোনালদোর মতো উদযাপন তনিমার

শীতের কনকনে ঠাণ্ডা আর ফ্লাডলাইটের আলো—এমন আবহেই শুরু হলো এবারের নারী ফুটবল লিগ। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সোমবার উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয়ের সঙ্গে লিগ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। ম্যাচের দুই গোলই করেন তনিমা বিশ্বাস, যার একটি ছিল দূরপাল্লার চোখধাঁধানো শট। জয়ের পর সেই গোল তিনি উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।

প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় পর মাঠে ফেরা নারী লিগের শুরুটা দেখতে গ্যালারিতে হাজির ছিলেন চার থেকে পাঁচ শ’ দর্শক। সাফজয়ী পরিচিত মুখদের নিয়ে গড়া পুলিশ এফসি এবং বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি সেনাবাহিনীর লড়াই দিয়েই শুরু হয় এবারের আসর।

ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল পুলিশ এফসি। ১২ মিনিটে সাগরিকা বক্সে বল পেলেও কঠিন কোণ থেকে নেওয়া তার শট আটকে দেন সেনাবাহিনীর গোলরক্ষক মিলি আক্তার। এরপর মাঝমাঠের লড়াইয়ে আটকে যায় খেলা।

৪০ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন তনিমা বিশ্বাস। মাঝমাঠ থেকে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার লফটেড শট হাওয়ায় ভেসে পুলিশের গোলকিপার তাসলিমার গ্লাভস এড়িয়ে জালে ঢুকে পড়ে। গোলটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। খেলা শেষে তনিমা বলেন, ‘এই গোলটা আমার কাছে খুবই স্মরণীয়। আমি এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ করছি। গত লিগে ৬-৭টা গোল করেছিলাম, এবার অন্তত একটি বেশি গোল করতে চাই।’

বিরতির পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে পুলিশ এফসি। ৫৬ মিনিটে সাবিনা খাতুন রুবির চিপ শট ডিফেন্ডারে লেগে গোলমুখে গেলেও দ্রুততায় বল ক্লিয়ার করেন সেনাবাহিনীর ডিফেন্ডার রুমা আক্তার।

৭০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তনিমা। সুলতানার বাড়ানো থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে দূরূহ কোণ থেকে নেওয়া শট দূরের পোস্ট ছুঁয়ে জালে জড়ায়। গোলের পরই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিখ্যাত উদযাপনের অনুকরণে উদযাপন করেন তিনি। এই উদযাপন প্রসঙ্গে তনিমা বলেন, ‘রোনালদোর জার্সি নম্বর ৭, আমারও ৭। ওর উদযাপন আগে দেখেছিলাম, তাই আমিও করেছি। সেনাবাহিনীর হয়ে অভিষেক ম্যাচেও দুই গোল করে একই উদযাপন করেছিলাম। রোনালদো আমার আইডল, যদিও আমি ব্রাজিলের সমর্থক।’

সেনাবাহিনীর হয়ে এটি তনিমার দ্বিতীয় মৌসুম। আগের আসরে দলটি তৃতীয় হয়েছিল। তনিমা বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব টার্ফ নেই। তাই বিকেএসপিতে গিয়ে ৫-৬ দিন অনুশীলন করেছি। সেখানে সিনিয়রদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।’