বায়ুদূষণের ভয়াবহ পরিণতি

‘বায়ুদূষণ’ আধুনিক বিশ্বের অন্যতম গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা। বিশেষ করে, বাংলাদেশে বায়ুদূষণ এক ভয়াবহ সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, দূষিত বাতাস শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত নানা রোগসহ হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোয় বায়ুদূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দূষিত পরিবেশ ও বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বায়ুদূষণ বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি নীরব কিন্তু মারাত্মক জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব কেবল পরিবেশের ক্ষয়েই সীমাবদ্ধ নয় বরং শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। শীত ও শুষ্ক মৌসুমে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানো প্রমাণ করে যে সমস্যাটি আর ভবিষ্যতের নয়, এটি এখনই মোকাবিলা করা প্রয়োজন। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অব্যবস্থাপনার ফলে এই সংকট দিন দিন গভীরতর হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও মানুষের জীবনমানকেও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। বায়ুদূষণ বর্তমানে পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যের অন্যতম গুরুতর সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে শীতকালে এবং শুষ্ক মৌসুমে বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে দেখা যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। বায়ুমান পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বাংলাদেশে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে বায়ুর মান অধিকাংশ দিনই  অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে অবস্থান করছে। শীত ও শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার গড় একিউআই প্রায়ই ১৫০-২৫০-এর মধ্যে ওঠানামা করে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

অনেক দিন ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকার শীর্ষ ১০-এর মধ্যে থাকে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের মতো শহরগুলোতে বায়ুমান তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো থাকলেও শীতকালে সেখানে একিউআই প্রায়ই মাঝারি থেকে খারাপ স্তরে পৌঁছে যায়। এই চিত্র স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, বায়ুদূষণ এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, বরং ধীরে ধীরে দেশব্যাপী একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশে বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পুরনো প্রযুক্তিনির্ভর ইটভাটা ও শিল্পকারখানা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত এসব ইটভাটা থেকে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া, ধূলিকণা ও ক্ষতিকর গ্যাস; বিশেষ করে সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সূক্ষ্ম কণা বাতাসে নিঃসৃত হয়। একইসঙ্গে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত নির্গমন বায়ুমানের মারাত্মক অবনতি ঘটায়, যা শীতকালে বৃষ্টি না থাকার কারণে আরও ঘনীভূত হয়ে ওঠে। এ ছাড়াা নগরাঞ্চলে পুরনো ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, চলমান নগরায়ণ ও অব্যাহত নির্মাণকাজজনিত ধুলাবালি, খোলা ট্রাকে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন এবং গ্রামীণ এলাকায় ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো ও কঠিন জ্বালানি ব্যবহার বায়ুদূষণকে আরও তীব্র করে তোলে। শীতকালে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে দূষিত বায়ুপ্রবাহ বাংলাদেশে প্রবেশ করায় স্থানীয় উৎসের সঙ্গে মিলিত হয়ে দূষণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়, যা সার্বিকভাবে দেশের বায়ুমানকে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রাখে। বাংলাদেশে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, শিল্প খাত ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ অপরিহার্য। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘আ ব্রেথ অব চেঞ্জ : সলিউশনস ফর ক্লিনার এয়ার ইন দ্য ইন্দো-গাঙ্গেটিক প্লেইনস অ্যান্ড হিমালয়ান ফুটহিলস’-এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি ও হিমালয়ের পাদদেশ (আইজিপি-এইচএফ) নামে পরিচিত অংশগুলোয় বায়ুদূষণ স্বাস্থ্য এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি করছে, যা এ অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুতর উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। দক্ষিণ এশিয়ার এসব রাষ্ট্রের গুরুতর উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো বায়ুদূষণ। এর ফলে এসব অঞ্চলে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ অস্বাস্থ্যকর বা দূষিত বায়ুতে শ্বাস নিচ্ছে। যার ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের ফলে এ অঞ্চলের বার্ষিক জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন-২০২৪ অনুযায়ী, বায়ুদূষণে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। শহর হিসেবে বিশ্বের রাজধানী ঢাকার অবস্থান ছিল শীর্ষ তিনে। এ ছাড়া আইকিউএয়ারের এক প্রতিবেদনে অস্বাস্থ্যকর বায়ুর দিক থেকে ঢাকার অবস্থান ছিল ১১তম। বায়ুদূষণে ঢাকার পাশাপাশি এগিয়ে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোরের মতো শহরও। বায়ুদূষণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাঁচটি উৎস খুঁজে পেয়েছে বিশ্বব্যাংক। মূল উৎস হিসেবে বলা হয়েছে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত আইজিপি-এইচএফকে। বায়ুদূষণের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে রান্না ও গরম করার জন্য কঠিন জ্বালানি পোড়ানো, উপযুক্ত ফিল্টার প্রযুক্তি ছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানি ও জৈব বস্তুপুঞ্জ পোড়ানো, অদক্ষ অভ্যন্তরীণ দহন যানবাহন ব্যবহার করা, কৃষকরা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো এবং অদক্ষভাবে সার ও সার ব্যবস্থাপনা করা এবং পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য পোড়ানো এসব কারণে বাড়ছে দূষণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের প্রধান উৎস ইটভাটা, উন্মুক্ত নির্মাণকাজ, পুরনো ডিজেলচালিত যানবাহন ও শিল্পকারখানার অপরিশোধিত ধোঁয়া। দেশে নিবন্ধিত হাজারো ইটভাটা এখনো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর হয়নি। ফলে শীত মৌসুমে ইটভাটার ধোঁয়া ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার বাতাসকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এর ফলে শুধু স্বাস্থ্য নয়, বায়ুদূষণের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতেও। বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে দূষণরোধ করতে পরামর্শ দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলে দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব। এতে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও আরও শক্তিশালী হবে। সংস্থাটি প্রতিবেদনে কিছু সমাধানের কথা তুলে ধরেছে, যেগুলো সহজেই গ্রহণ করা ও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎচালিত রান্নাব্যবস্থা; শিল্পকারখানার বয়লার, চুল্লি ও ভাটার বিদ্যুতায়ন ও আধুনিকীকরণ; অ-মোটরচালিত ও বৈদ্যুতিক পরিবহনব্যবস্থা; ফসলের অবশিষ্টাংশ ও পশুবর্জ্যরে উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য আলাদা করা, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির উন্নত পদ্ধতি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খণ্ডিত বা সাময়িক উদ্যোগ নয় বরং বিজ্ঞানভিত্তিক, সমন্বিত ও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন অপরিহার্য। পরিবেশ সুরক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে আইন প্রয়োগ, পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুস্থ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এখনই দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুরনো ও দূষণকারী ইটভাটাগুলোর পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কলকারখানায় নির্গত ধোঁয়া পরিশোধনের জন্য উন্নত ফিল্টার ব্যবহার করা প্রয়োজন। পুরনো ও উচ্চমাত্রায় ধোঁয়া নির্গতকারী যানবাহন নিষিদ্ধ করা দরকার। সিএনজি, ইলেকট্রিক গাড়ি ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবহার বাড়ানো উচিত। নির্মাণকাজের সময় নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা ও নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখার নিয়ম চালু করতে হবে, যাতে ধুলাবালি বাতাসে না ছড়ায়। শহর ও গ্রামে বেশি পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। গাছ বাতাসের ক্ষতিকর উপাদান শোষণ করে বায়ুর গুণগত মান উন্নত করে। সাধারণ মানুষকে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে মাস্ক ব্যবহার, গাছ লাগানো ও দূষণ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিবছর শীতকালে খারাপ পরিস্থিতি হওয়া সত্ত্বেও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বায়ুদূষণ রোধে নির্দেশিকার বাস্তবায়ন দেখা যায় না। নির্দেশিকায় রাস্তা নির্মাণের সময় নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, বিটুমিনের ওপর বালি না ছিটিয়ে মিনি অ্যাসফল্ট প্ল্যান্টের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার, রাস্তার পাশের মাটি কংক্রিট বা ঘাসে ঢেকে দেওয়া, রাস্তা পরিষ্কারে ঝাড়ুর পরিবর্তে ভ্যাকুয়াম সুইপিং ট্রাক ব্যবহার, বড় সড়কে কমপক্ষে দুবার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নেওয়া কোনোটি কার্যকর করার উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। বাংলাদেশে নির্মাণসামগ্রী রাখা বা পরিবহনের সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিমালা না থাকায় নির্মাণস্থলগুলোয় প্রচুর ধুলাবালি থাকে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে ঢাকায় প্রতিদিন ৫০০ টন ধুলা সড়কে জমে এবং দুই হাজার টন বাতাসে ওড়ে। কিন্তু পৃথিবীর প্রায় ৮৯টি শহর তাদের বায়ুমান ঠিক রাখতে পারছে।

বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বাতাসের গুণগত মানের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিষয়গুলো সমন্বিত করে কার্যকর সরকারি নীতিমালার মধ্যে আনতে হবে। পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত। যে কোনো ধরনের দূষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। বাংলাদেশের দূষণ কমানোর পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ বন্ধ করার জন্য আঞ্চলিকভাবেও উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সব দেশের একমত হতে হবে। বিশ্বব্যাপী অক্ষমতা ও মৃত্যুর শীর্ষ কারণ হচ্ছে বায়ুদূষণ। প্রতিবছর প্রায় ৯০ মিলিয়ন মানুষ দূষণে মারা যায়, যার দুই-তৃতীয়াংশই মারা যায় শুধু বায়ুদূষণের কারণে। ডব্লিউএইচওর মতে, বায়ুদূষণে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ মিলিয়ন লোক মারা যায়। মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দূষিত বায়ুর কারণে একজন ব্যক্তির হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। বায়ুদূষণ শুধু পরিবেশের ক্ষতি করে না, এটি মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যে কারণে বায়ুদূষণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ জন্য সরকার, পরিবেশ সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক

raihan567@yahoo.com