রাজনৈতিক কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরার হ্যান্ডশেক করেন না। এবার প্রায় একই দৃশ্য দেখা গেল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। আর্সেনালের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রতিপক্ষ কোচ মিকেল আর্তেতার সঙ্গে হাত মেলাননি অ্যাস্টন ভিলা কোচ উনাই এমেরি। পরে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন স্প্যানিশ এই কোচ।
ম্যাচ শেষে কোচদের মধ্যে হাত মেলানো সৌজন্য হিসেবেই দেখা হয়। তবে মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে সেই দৃশ্য দেখা যায়নি। এমেরি জানান, সাধারণত ম্যাচ শেষ হওয়ার পর তিনি দ্রুত হাত মিলিয়ে ভেতরে চলে যান। তার ভাষায়, তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু আর্তেতা তখন আনন্দ উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা না করে তিনি ভেতরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি ঠান্ডা আবহাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন এমেরি।
যদিও এমেরির ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারেননি অনেক আর্সেনাল সমর্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাকে ‘পরাজয় মানতে না পারা’ কোচ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ৯০ মিনিট ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে থেকে অভিযোগ না করলেও ম্যাচ শেষে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করতে না পারার অজুহাত বিশ্বাসযোগ্য নয়। কেউ আবার ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে দাবি করেছেন, এমেরি আসলে অপেক্ষাই করেননি, সরাসরি ভেতরে চলে গেছেন।
এর আগে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে লন্ডনে গিয়েছিল লিগের তিন নম্বরে থাকা অ্যাস্টন ভিলা। জিতলে পয়েন্টে আর্সেনালের সমতায় পৌঁছানোর সুযোগ ছিল তাদের। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করায় প্রথমার্ধ থাকে গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধে পুরো চিত্র বদলে দেয় আর্সেনাল। ৪৮ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ৪ মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্টিন সুবিমেন্দি।
৬৯ মিনিটে দূরপাল্লার শটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দ তৃতীয় গোল করেন। এরপর বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুস ৮৪ মিনিটে চতুর্থ গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। যোগ করা সময়ে অলি ওয়াটকিনস একটি গোল শোধ করলেও তাতে ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই হয়নি। এই জয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে সাময়িকভাবে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। চলতি মৌসুমে শিরোপা দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানও জানান দেয় তারা।