কুষ্টিয়ার মিরপুরে রানা আহম্মেদ (৪০) নামে ঘরজামাই এক নির্মাণ শ্রমিকের লাশ প্রতিবেশীর উঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড এবং জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাজমুল হোসেন (৩৫) নামে প্রতিবেশীর জামাইকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা পারিবারিক কলহ অথবা বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার আব্দুল্লাহ মালিথার ছেলে নির্মাণ শ্রমিক দুই শিশু সন্তানের পিতা। নিহত রানা আহম্মেদ বিয়ের পর থেকেই মিরপুর উপজেলার মালিহাদ জদ্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্বশুর আসান আলীর বাড়িতেই ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতো। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে আসান আলীর বাড়ি থেকে ২/৩ বাড়ি পর প্রতিবেশী মুদি দোকানী আলী হোসেনের বাড়ির উঠানে রানার লাশ পড়ে থাকতে দেখে ওই বাড়িতে অবস্থানরত দুই বোনের শোর চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশে খরব দেয়। উল্লেখ্য এ সময় ঘটনাস্থলের ওই বাড়িতে আলী হোসেনের বড় জামাই নাজমুল হোসেন (৩৫) এবং দুই কন্যা অবস্থান করছিলেন। আলী হোসেনের ছোট কন্যার স্বামী কুয়েত প্রবাসী।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মালিহাদ গ্রামের রানা আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তির লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বাম চোখে আঘাত জনিত রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন থাকায় এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ পুলিশের। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নাজমুল ইসলাম (৩৫) নামের ঘটনাস্থলের ওই বাড়ির জামাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহ বা বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।