ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলায় এবার ৭০১টি বাঁধের কাজের প্রকল্প (পিআইসি) গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার উৎপাদিত ফসল রক্ষার জন্য ৯৫টি হাওরের ৭০১টি অংশে এবার হাওর রক্ষা বাঁধ মেরামত বা নতুন করে তৈরি ১৪৪ টাকা বরাদ্দ চেয়ে পত্র প্রেরণ করেছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রত্যেক পিআইসিকে আগাম ২৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে পিআইসির কাজের অগ্রগতি হওয়াতো দূরের কথা ৬শতটি পিআইসিতে ছটাক পরিমাণ মাটি পড়েনি।
৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবারের জেলা কমিটির সভায় ৭০১টি বাঁধের কাজের ৬১৪টির প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন হয়েছে দেখালেও বাঁধের কাজ ঐদিন পর্যন্ত মাত্র ১২১ টিতে শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে পাউবো। বাস্তবে গত বছর এই দিনে ২০০ এর কাছাকাছি হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছিল বলে পাউবোর একজন প্রকৌশলী জানান। জেলার হাওরের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এবার কমপক্ষে দশদিন পিছিয়েছে। অন্যান্য বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে হাওরে উল্লেখ করার মত বাঁধে কাজ শুরু হলেও এবার সেটি হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন, পিআইসি গঠনে বিলম্ব এবং কর্মকর্তাদের বদলির কারণে হাওরে বাঁধের কাজের সূচনায় বিলম্ব হয়েছে।
পাউবোর কর্মকর্তারা জানান, রবিবার পর্যন্ত পিআইসি গঠনের অগ্রগতি ছিল হতাশাজনক। মঙ্গলবার জেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভা থাকায় সোমবার বিকেলে তড়িঘড়ি করে কিছু পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করে জেলা কমিটিতে পাঠান উপজেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্যরা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, বাঁধের কাজ পেছানোর কিছু ধান্দাফিকিরও থাকে। নির্বাচনের বছর এবার, অনেকের মনোযোগ ওদিকে নাও থাকতে পারে। এই সুযোগ যেন অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা না নেয়, সেই খেয়াল সকলকে রাখতে হবে। জামায়াত নেতা কৃষক সংগঠক সিরাজুল হক অলি বললেন, বাঁধের কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। এখনো যদি গুরুত্ব দিয়ে আগানো যায়, সমস্যা হবার কথা নয়। জেলা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)র সাধারণ সম্পাদক শেখ এমদাদুল হক বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে পিআইসির জেলা, উপজেলা ও মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। পোষ্য লোকদের প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠন করা হয়েছে পিআইসি। সকল দলমতের প্রতিনিধিকে বাঁধের কাজে সম্পৃক্ত করা হয়নি।
জুলাইযোদ্ধা মো. জহুর আলী বলেন, যে তুলনায় ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে সে তুলনায় বাঁধের কাজে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে পিআইসির কাজে গাফিলতির দায় দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলায় এবার বোর চাষাবাদ হবে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে। চার লাখ কৃষক পরিবারের সম্পৃক্ততায় তাতে ১৪ লাখ টন ধানের উপাদান হবার কথা। টাকার অংকে এই ধানের মূল্য পাঁচ হাজার ২৮ কোটি টাকার উপরে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বাঁধের কাজ দশদিন পিছিয়েছে স্বীকার করে বললেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রদবদল ও পিআইসি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে সকল পিআইসি গঠন শেষে বাঁধের কাজ জোরেশোরে শুরু হবে। নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সকল বাঁধের কাজ শেষ হবে।