খালেদা
মুহম্মদ নূরুল হুদা
তোমার গমনপথে হাঁটে পরিপাটি
বাংলাদেশ। সুশীতল পাটি,
অড়হড়, মটরশুঁটির ডাল, ধানশীষ, গিরিমাটি,
সরোবর, শাড়ির আঁচল, আম-আঁটি
যখন আকুল করে তুমুল তোমাকে
শাদা বক উড়ে যায়, ছায়া তার পড়ে জলবাঁকে;
তোমার সুপদ্ম পদ, সে মুহূর্তে নদীমাতৃ আঁকে।
অবিচল সাহসিনীকে
হাসান হাফিজ
রোদনের হাহাকার মৃত্তিকায় নয় শুধু
আকাশেও মাতৃহীনতার কষ্ট উড়ছে অসীমে
আপস তোমার নয়, ক্লীব যারা শুধুই তাদের
তুমি আছো, থেকে যাবে চিরকাল
ধানশীষে মেঘমালা বদ্বীপের নদীর প্রবাহে
জনমনে আছে সেই অনিঃশেষ ফগ্লুধারা
কারা বলে নেই তুমি,
আছো ঠিকই দৃষ্টির আড়ালে...
মানবের ময়দান
রেজাউদ্দিন স্টালিন
আমরা সমবেত হয়েছি
এক অনিঃশেষ মানব ময়দানে
এক নিরাপোষ সংগ্রামের মুখচ্ছবি দেখতে
যে আমাদের অভয় দিয়েছিল
যে আমাদের শুনিয়েছিল
ধানশীষের গল্প আর দেখিয়েছিল মুক্তির সীমান্ত
যে দেশের মানচিত্র নদীর অনুকরণে আঁকা
যে দেশের বৃক্ষ মায়ের মুখের আদলে আদৃত
আমরা সমবেত হয়েছি তার স্মৃতির কাছে
আমরা জানি প্রয়াণের পর শুধু গল্প থাকে
স্মৃতি দুলতে থাকে ঘড়ির কাঁটা হয়ে
তবু তিনি জেগে উঠছেন কোটি জনতার অশ্রুজলে
তিনি অমর কবিতার শব্দে আরও বাঙ্ময়
‘না’-এর শক্তি তুমি জানো
ডালিয়া সাত্তার
শিরের কয়েক ইঞ্চি ওপরে দোলানো ফাঁসির রশি,
ব্যথায় কাতর সন্তানের মুখ,
সাপের ফণার মতো ছোবলরত বিষধর মিডিয়া
সব কিছু উপেক্ষা করে
তুমি বলেছো ‘না’।
জনগণের পায়ে বেড়ি দেওয়ার,
বিশ্বাসঘাতকতা, আঁতাত আর
কৌশলে ক্ষমতার শিকে ছেঁড়ার
সকল লোভকে তুমি
তিতুমীরের ইমান
বখতিয়ারের সাহস
আর নূর হোসেনের দেশপ্রেম দিয়ে
বলে দিয়েছো ‘না’।
কেননা ‘না’-এর শক্তি তোমার জানা
কালেমার শুরু হচ্ছে ‘না’,
বায়ান্নর স্লোগান ছিল ‘না’,
একাত্তরের মন্ত্র হলো ‘না’।
‘না’-এর শক্তি বলেই তুমি তাড়িয়েছিলে
সিন্দাবাদের বুড়ো শয়তানের মতো
বাংলাদেশের কাঁধে জেঁকে বসা
বেহায়া স্বৈরাচার।
এবারো তুমি
‘না’-এর ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছো অবিচল।
দেখবে সব বেইমান পালিয়ে যাবে,
মেরুদ-হীন সরীসৃপের দল
মাটিতে গড়াগড়ি করতে করতে
লুকাবে গিয়ে অন্ধকার গর্তে,
আর ছিন্ন হয়ে যাবে
মাকড়সার জালের মতো
বিস্তৃত সকল ষড়যন্ত্রের জাল।
জেনে রেখো সাহসীর বীরত্বগাথাই গড়ে দিয়েছে
চিরন্তন বাংলাদেশের ইতিহাস।