১৯তম ওভারে ১৮ রান নেয়ায় শেষ ওভারে ২৭ রানের সমীকরণে সামনে দাড়িয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। শামীম পাটোয়ারি ছিলেন বলে সবাই ধারণা করেছিল হয়েও যেতে পারে রানটা।
মোহাম্মদ আমিরের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাকালেন শামীম। পরের বলটা হলো ওয়াইড, তার পরেরটা নো করলেন আমির। বৈধ দ্বিতীয় বলে শামীম মারলেন ছক্কা। তার মানে ৪ বলে চাই ১৫। কিন্তু চতুর্থ বলটায় ব্যাটে বলে করতে পারলেন না শামী। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম বলে শামীম দুই বাউন্ডারি মারলে শেষ বলে দরকার দাড়ায় ৭ রান। অন্তত ছক্কা হাকালে টাই হয় ম্যাচটি। কিন্তু ধুরন্ধর আমির ইয়র্কার করলেন যা শামীম কোনো রকমে আটকালেন। হলো না। দুর্দান্ত বলে আমিরের প্রশংসা সূচক ইঙ্গিত করে হতাশা নিয়ে প্যাভিলিয়নের পথে হাটতে থাকলেন শামীম। ৫১ রানের জুটিতে মাত্র ৩ রানের অবদান রাখা তাসকিন আহমদে তাকে স্বান্তনা দিচ্ছিলেন তখন।
শামীমের ৪৩ বলে ৯ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৮১ রান ছাড়া ক্যাপিটালসের ইনিংসে বলার মতো স্কোর উসমান খানের ২১ আর সাব্বির রহমানের ২৩। স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স ৬ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেলো। সিলেটের জয়ের নায়ক আজমতউল্লাহ ওমরজাই। আগের রাতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ব্যাট হাতে ২৪ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরে বল হাতেও ৩ উইকেট নেন আফগানিস্তানের পেস বোলিং এই অলরাউন্ডার।
দুই দিন বিরতির পর এই ম্যাচ দিয়েই আবার শুরু হয় বিপিএল। খেলা শুরুর আগে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল ও মাঠে উপস্থিত বাকিরা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন ছয় নম্বরে নামা ওমরজাই। তার ঝড়ে শেষ পাঁচ ওভারে ৭৪ রান পায় সিলেট। এছাড়া ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ বলে ৪৪ রান করেন আগের দুম্যাচে ষাটোর্ধ দুই ইনিংস খেলা পারভেজ হোসেন ইমন। আর ২৯ রান করতে ৩৪ বল খেলে ফেলেন সাইম আইয়ুব। ২ উইকেটের জন্য ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করেন সালমান মির্জা। এবারের বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা তাসকিনও ৪ ওভারে দেন ৪৬ রান।
রান তাড়ায় শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। ৮ ওভারের মধ্যে মাত্র ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ৩১ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন সাব্বির রহমান ও শামীম। ১৯ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান সাব্বির। পরে দলকে একাই টেনে নেন শামীম। বাঁহাতি ব্যাটারের অপরাজিত ৮১ ১৩৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার সর্বোচ্চ ইনিংস। একইসঙ্গে এই ফরম্যাটে ২ হাজার রানও পূর্ণ হয়েছে তার।
তিন ম্যাচের সিলেটের এটি দ্বিতীয় জয়। দুই ম্যাচে ঢাকার প্রথম পরাজয়।
ম্যাচের পর ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন অকপটেই তুলে ধরলেন নিজের ব্যর্থতা আর কৃতিত্ব দিলেন শামীমকে। “অসাধারণ ইনিংস ছিল। আমরা জানি, শামীমের সামর্থ্য কেমন…।” “এটা স্রেফ ‘ওয়ান ম্যান শো’ ছিল। আমাদের ব্যাটিংয়ের কথা বললে, কেবল শামীমই টিকে ছিল। অন্য কেউ তার পাশে থাকতে পারলে ভিন্ন ফল হতে পারত।”
সেই একই আক্ষেপ শামীমের কণ্ঠেও। নিজের ওপর বিশ্বাসের কমতি ছিল না তার। কিন্তু উপযুক্ত একজন সঙ্গী না পাওয়ার আফসোসও করলেন। “ম্যাচ হেরে গেলে তো অবশ্যই আফসোস থাকে। বিশ্বাস ছিল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত থাকব… নিজের উপরে বিশ্বাস ছিল যে পারব। যদি কেউ একটু সাপোর্ট করত, তাহলে সহজেই… আমি মনে করি উইকেট অনেক ভালো ছিল। সহজেই ম্যাচটা বের হয়ে যেত।”
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৭৩/৫ (সাইম ২৯, রনি ১১, মিরাজ ৬, ইমন ৪৪, আফিফ ১৩, ওমরজাই ৫০*, ব্রুকস ১৩*; ইমাদ ৩-০-১৪-০, তাসকিন ৪-০-৪৬-১, সালমান ৪-০-৪৬-২, নাসির ৩-০-২০-০, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩২-১, সাইফ হাসান ২-০-১৩-১)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (সাইফ ৯, জুবাইদ ১, উসমান ২১, মিঠুন ০, নাসির ৫, শামীম ৮১*, সাব্বির ২৩, ইমাদ ৮, সাইফ উদ্দিন ০, তাসকিন ৩*; আমির ৪-১-৩০-২, নাসুম ৪-০-২৬-২, ওমরজাই ৪-০-৪০-৩, মিরাজ ৩-০-১৯-১, খালেদ ৩-০-২৫-০ সাইম ১-০-১৪-০, আফিফ ১-০-৬-০)
ফল: সিলেট টাইটান্স ৬ রানে জয়ী