সিলেটের বিশ্বনাথে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হলো ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব। বাঁশ-বেতের তৈরি মাছ ধরার উপকরণ ‘পলো’ দিয়ে বিল থেকে অনেকেই ধরেছেন রুই-কাতলা, বোয়াল, শোল-গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ। নারী-শিশুসহ অনেকেই বিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন মাছ ধরার এই উৎসব।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বনাথ উপজেলার গোয়াহরি বিলে এই উৎসব সকলকে আনন্দিত করে। মাছ ধরে হুই-হুল্লোড় করেছেন সৌখিন শিকারীরা। তবে তীব্র শীতের কারণে বেশিক্ষণ শিকারীরা মাছ ধরতে পারেননি। অনেকে ফিরেছেন খালি হাতে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম দিন এই উৎসব পালিত হলেও এবছর বিলের পানি কমে যাওয়ায় ১৫ দিন আগেই ইংরেজি নববর্ষের দিনে পলো বাওয়ার আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসবে যোগ দিতে দেশে এসেছেন অনেক প্রবাসী। আশপাশের গ্রামের বিবাহিত মেয়েরা স্বামী-সন্তান নিয়ে এসেছেন বাবার বাড়িতে। গ্রামবাসীর মিলনমেলার পলো বাওয়া উৎসব ঘিরে গোয়াহরি গ্রামে গত কয়েক দিন ধরে বিরাজ করছে আনন্দ আমেজ।
আজকের পলো বাওয়া উৎসব শুরুর আগে সকাল থেকেই বিলের তীরে পলো হাতে নিয়ে জড়ো হন সৌখিন শিকারীরা। এরপর এক সঙ্গে শুরু করেন মাছ ধরা। বোয়াল, রুই, কাতলা, কার্ফু, মৃগেল, আইড়, শোল, গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরেন তারা। বড় মাছ ধরে আনন্দে মেতেছেন শিকারীরা। আগামী ১৫ দিন বিল থেকে এভাবেই মাছ ধরা হবে। গ্রামের পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পনেরো দিন বিলে মাছ ধরার ক্ষেত্রে নেই কোনও নিষেধাজ্ঞা।
এবারের পলো বাওয়া উৎসবে সবচেয়ে বড় বোয়াল মাছটি শিকার করেছেন মামার বাড়িতে বেড়াতে আসা রাজু আহমদ। তার মামা গোয়াহরি গ্রামের আবদুল মতিনের পরিবারের পক্ষে পলো বাওয়া উৎসবে যোগ দিয়ে রাজু বড় বোয়ালের পাশাপাশি আরও একাধিক বড় মাছ ধরেছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি ঢাকায় ভাইরাল হওয়া বিশ্বনাথের ‘দৌঁড় আব্দুর রব’ প্রবাসী ফুফাতো ভাইয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে পলো বাওয়া উৎসবে অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ শিকার করে আজ আবারও ভাইরাল হয়েছেন।
প্রবাসী রেজাউল করিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর দেশে এসে পলো বাওয়া উৎসবে যোগ দিয়েছি। বোয়াল-কাতলাসহ একাধিক মাছ শিকার করতে পেরে খুশি লাগছে।’
গ্রামের লাল মিয়া, ইকবাল হোসেন, মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবার শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় অনেক সৌখিন শিকারিই বেশি সময় বিলের পানিতে থাকতে পারেনি। ফলে মাছ শিকারও কম হয়েছে।’
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি, যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজী তৈমুছ আলী বলেন, ‘এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও পানি চলাচল না থাকায় মাছ কমে গেছে। তবে দীর্ঘদিন পর এই উৎসবে যোগ দিতে পেরে ভালো লাগছে।’
প্রবীণ মুরব্বী হাজী আবদুল কুদ্দুছ বলেন, আমাদের পূর্ব পূরুষেরা সারা বছরই এই বিল থেকে মাছ শিকার করেছেন। সময়ের সাথে সাথে বিলে পানি ও মাছের পরিমাণ কমে এসেছে। তাই এখন পলো বাওয়া উৎসবে যোগ দেওয়া অনেককেই খালি হাতে ফিরতে হয়। তবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখায় তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।