৬ বছরে রুমিন ফারহানার বার্ষিক আয় ৪ লাখ থেকে বেড়ে ৯৭ লাখ টাকা

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানার ঘোষিত আয় ও সম্পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে ৬ বছরের ব্যবধানে। এই সময়ে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ২২ গুণের বেশি। একইসঙ্গে স্থাবর সম্পদের তালিকা বেড়েছে।

২০১৯ সালে তার জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে ২০২৫ সালে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জমা দেওয়া হলফনামার তুলনায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।

৬ বছরে আয়ের হিসাব

২০১৯ সালে জমা দেওয়া হলফনামায় ফারহানা বার্ষিক আয় দেখিয়ে ছিলেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ছিল ৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক আমানতের সুদ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা।

২০২৫ সালের হলফনামা অনুযায়ী, তার ঘোষিত বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। অর্থাৎ ৬ বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে অন্তত ২২ গুণ। পেশা হিসেবে নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। নগদ অর্থ বেড়েছে ৩ গুণের বেশি

২০১৯ সালে তার হাতে নগদ অর্থ ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা। ২০২৫ সালের হলফনামায় সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ টাকা। ৬ বছরে নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৩ গুণেরও বেশি।

স্থাবর সম্পদের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে রুমিন ফারহানা তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে মাত্র একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেন, যা তিনি মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।

কিন্তু ২০২৫ সালের হলফনামায় তার মালিকানায় ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে ৫ কাঠা জমি, একই এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া আরও একটি ফ্ল্যাট এবং পুরান ঢাকার পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক স্পেস, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। এসব সম্পত্তির অধিকাংশই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সেগুলোর জন্য কোনো ক্রয়মূল্য দেখানো হয়নি। দুটি হলফনামাতেই তার নামে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার তথ্য রয়েছে। যা তিনি উপহার হিসেবে পাওয়া কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ব্যাংক আমানত, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো বিনিয়োগ তার নামে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা তিনটি মামলা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান ছিল। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, নতুন আরেকটি মামলাসহ আগের সেসব মামলা একই আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নতুন হলফনামা অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে রুমিন ফারহানা মোট ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা আসবে তার নিজস্ব আয়ের উৎস থেকে (আইন পেশা) এবং ৫ লাখ টাকা ধার নেবেন খালাতো ভাই প্রবাসী গালিব মেহেদীর কাছ থেকে।

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন রুমিন ফারহানা। গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সরাইল উপজেলার সাবেক যুবদল নেতা মো. আলী হোসেন।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করা হয়।