পৌষের মাঝামাঝিতে চাঁদপুরের মতলবে জেঁকে বসেছে শীত। টানা কয়েকদিন ধরে হিমেল হাওয়া আর কুয়াশার দাপটে জনজীবনে কিছুটা স্থবিরতা আসলেও, প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে উপজেলার ফুটপাতের কাপড়ের দোকানগুলোতে। হাড়কাঁপানো শীত থেকে বাঁচতে সাশ্রয়ী মূল্যে গরম কাপড় কিনতে এসব দোকানে ভিড় করছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ছেংগারচর বাজারে, সুজাতপুর বাজারে, নতুন বাজারের ফুটপাতগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী চৌকিতে সাজানো সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, কানটুপি ও কম্বল কেনায় ব্যস্ত সবাই। বিশেষ করে শিশুদের কাপড়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
কেনাকাটা করতে আসা আব্দুর রহমান জানান, মার্কেটগুলোতে কাপড়ের দাম অনেক বেশি, কিন্তু ফুটপাতে যাচাই-বাছাই করে সাশ্রয়ী দামে ভালো মানের সোয়েটার ও জ্যাকেট পাওয়া যায়। তাই এখান থেকেই কেনাকাটা করছি।
দিনমজুর সালাম মিয়া বলেন, আমরার কি আর এত টাকা আছে, যে মার্কেট থেকে কিনমু! ভ্যানগাড়ি থেকে ১০০-২০০ টাকার মধ্যেই কিনতে হইব৷
বিক্রেতারা জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বহুগুণ বেড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বড়দের জ্যাকেট প্রকারভেদে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং শিশুদের সেট ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা।
বিক্রেতা লতিফ মিয়া বলেন, তিন-চার দিন ধরে কিছু বিক্রি হচ্ছে। এখন মোটামুটি ৩-৪ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি করা যাচ্ছে। এমন শীত থাকলে আরও বেশি বেচা যাবে।
উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে আমরা শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। শীতার্তদের পাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় থাকবে।