হায়দারকে অব্যাহতি কলিকে বহিষ্কার

যৌন হয়রানির অভিযোগে সোচ্চার হয়েছিল শুটিং অঙ্গন। বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছিলেন ভুক্তভোগী একাধিক নারী শুটার। সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করা শুটাররা একটা পর্যায়ে নেমে এসেছিলেন রাজপথে। অবশেষে তাদের দাবির মুখে বিতর্কিত হায়দারকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ১ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল দেশ রূপান্তর-এর খেলার পাতায়। এরপর আর দেরি করেনি সরকার। সেদিনই হায়দারকে অ্যাডহক কমিটি থেকে অপসারণ করে চিঠি দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ আছে, ‘যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রদত্ত এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।’

এদিকে ‘বিশ্বস্ত সহচরকে’ হারিয়ে ক্ষুব্ধ শুটিং ফেডারেশন মহাসচিব ফেরদৌস আরা খানম (আলেয়া ফেরদৌস) অন্যায়ের প্রতিবাদকারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে সাময়িক বহিষ্কার করে সেদিনই চিঠি দিয়েছেন। তিনি চিঠি দেন কলির ক্লাব বাংলাদেশ নৌবাহিনী শুটিং ক্লাবকে। তাকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না সে মর্মে ব্যাখ্যা চেয়ে তিনদিন সময়ও বেঁধে দিয়েছে ফেডারেশন। ফেডারেশনের আচরণবিধির কয়েকটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে কলির বিরুদ্ধে। এই বহিষ্কারাদেশের কবলে কলি পড়েছেন মূলত জাতীয় দলের ক্যাম্প বন্ধ থাকায় শুটারদের ক্ষতি নিয়ে ও বিতর্কিত জিএম হায়দারকে নিয়ে কথা বলায়।

কলি বর্তমানে আছেন অলিম্পিকের বৃত্তির আওতায়। গত সেপ্টেম্বর থেকে তিনিসহ মোট ছয়জনকে মাসিক ১৫০০ ডলার করে বৃত্তি দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। যেটা চলবে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের আগ পর্যন্ত। এই বৃত্তির অর্থের বড় একটা অংশই কলিসহ অপর দুই শুটার দিয়ে দেয় ফেডারেশনকে। শর্ত অনুযায়ী এই বৃত্তির অর্থে বৃত্তিপ্রাপ্তদের লাগাতার অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া, উন্নতমানের ক্রীড়া সরঞ্জামাদি সরবরাহ, নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশের সুযোগ করে দেওয়ার কথা ফেডারেশনের। তবে ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে ভুক্তভোগী নারী শুটাররা জিএম হায়দারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পর হঠাৎ করেই জাতীয় দলের ক্যাম্প বন্ধ করে দেয় ফেডারেশন। ক্যাম্প বন্ধ থাকা মানেই শুটারদের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়া। এ নিয়ে দেশ রূপান্তর-এর সঙ্গে কথা বলেন কলি এবং আরেক বৃত্তিপ্রাপ্ত শুটার রবিউল ইসলাম। ক্যাম্প শুরু করার পাশাপাশি গত ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের পর থেকে কোনো আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়া নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন তারা। কলি একই সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত হায়দারকে এখনো ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে শুটারদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যে কমিটিতে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির এক বিতর্কিত সদস্যকে রাখায় তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ছিল অনেকের মনে। সেই কমিটির আজ তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার আগেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ক্রীড়া পরিষদের এ সিদ্ধান্ত মোটেই মনঃপূত হয়নি পুতুল সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসের, যার চোখে হায়দারের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ বানোয়াট ও মিথ্যা। বিশ্বস্ত সহচরকে হারানোর ক্ষোভটা এই অশীতিপর কর্মকর্তা ঝেড়েছেন কলিও ওপর। কোড অব কন্ট্রাক্ট ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছেন, পাশাপাশি তার ক্লাবকে স্থায়ীভাবে কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে না জানাতে বলেছেন তিন কর্মদিবসের মধ্যে।

হায়দারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কী আছে সেটা জানার অপেক্ষায় আছেন শাস্তি দাবি করা শুটাররা। তাদের চাওয়া, হায়দারের যাতে আরও বড় শাস্তি হয় এবং তিনি যেন ভবিষ্যতে কখনো বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের কমিটিতে আসতে না পারেন।

এদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের জন্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও একটি কমিটি গঠন করেছে ২২ ডিসেম্বর। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লিলি বিলকিস বানুকে আহ্বায়ক, সিনিয়র সহকারী সচিকে (ক্রীড়া শাখা-১) সদস্য সচিব এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক প্রশাসনকে সদস্য করে এ কমিটি বিষয়টি নিয়ে তাদের মতো করে কাজ শুরু করেছে।