সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলার গড় তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়িতে শীতের তাপমাত্রা ছিল ৯.৬ ডিগ্রি সে: ও তাড়াশে আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় একই সময় শীতের তাপমাত্রা ছিল ১১.০ ডিগ্রি সে:।

সে হিসাবে ধরা যায় সিরাজগঞ্জ জেলার ৯ উপজেলার গড় তাপমাত্রা ছিল ১০.৫ ডিগ্রি সে:। বাঘাবাড়ি ও তাড়াশ আবহাওয়া অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, আজ ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এটি মাঝারি ধরণের শৈত্যপ্রবাহ ধরা হচ্ছে।

তাড়াশ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়াও বইছে। যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি। আজ ভোর ৬টায় তাড়াশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা গতকালের চেয়ে বেশি।

সিরাজগঞ্জে পৌষের এ হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশার কারণে জেলার অনেক এলাকায় সরিষা ফুলের পরাগায়ন ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ বছর সরিষার উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার শংকায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

অপরদিকে ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলার কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে জনজীবন বেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনীর চরের সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, এ বছর ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১ বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছি। তীব্র শীতে ফলন ভালো না হওয়ায় পুরো টাকাই লোকসান গুনতে হচ্ছে। এখন ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা পরিবার পরিজন চালাতেই দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

একই চরের কাঠমিস্ত্রী আব্দুল করিম বলেন, তীব্র শীতের কারণে হাতে কোনো কাজ কাম নাই। তাই খুব অভাবে আছি।

ওই চরের পল্লী চিকিৎসক জিয়া উদ্দিন বলেন, এই তীব্র শীতে শিশুদের শীত জনিত ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, সর্দি, নিউমনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকপ আশংকা জনক বেড়েছে। 

সিরাজগঞ্জ শহরের রিকশা চালক সামাদ আলী বলেন, কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত থাকলেও আজ সকাল থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত পড়েছে। এতে কাজ নেই বললেই চলে। শহরে অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। কিন্তু শীতের কারণে শহরে মানুষের সংখ্যা খুব কমে গেছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক সবুজ মিয়া বলেন, সকাল থেকে বসে আছি, কোনো ভাড়া পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়বে।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার বলেন, প্রচণ্ড শীতে শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, জ্বরসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শীত মৌসুমে শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষভাবে সতর্কতার সঙ্গে পরিচর্যার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।