সিডনি টেস্ট শুরুর আগে বীরোচিত সংবর্ধনা পেলেন সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর নায়ক

অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্ট শুরুর আগে ঐতিহাসিক সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) সৃষ্টি হলো এক আবেগঘন মুহূর্ত। দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়ামে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হলো বন্ডি সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর নায়ক আহমেদ আল-আহমেদকে। পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে করতালি আর হর্ষধ্বিনর মাধ্যমে সম্মান জানিয়েছে সিরীয় বংশোদ্ভূত এই প্রবাসীকে।

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সৈকতে আচমকা গুলিবর্ষণ করতে থাকে একাধিক সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় মোট ১৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে একজন শিশু। এই ভয়বাহ ঘটনা দেখে স্থির থাকতে পারেননি আহমেদ। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই বন্দুকধারীর একজন সাজিদ আকরামের ওপর পেছন থেকে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন। এক হাতে তাকে জাপটে ধরে অন্য হাতে বন্দুকটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।বিদায়ী টেস্ট খেলতে নামা উসমান খাজার নেতৃত্বে আহমেদ আল আহমেদক অভিবাদন জানান অজি ক্রিকেটাররা।

সাজিদকে জাপটে ধরলেও অন্য বন্দুকধারীর গুলিতে আহমেদ আহত হন। আজ রবিবার সকালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হাত স্লিংয়ে বাঁধা অবস্থায় মাঠে প্রবেশ করেন দুই সন্তানের বাবা আহমেদ। মাঠের বিশাল স্ক্রিনে বন্ডি হামলায় নিহত ১৫ জনের নাম ভেসে ওঠে, সঙ্গে লেখা ছিল ‘চিরকাল থেকে যাবে আমাদের হৃদয়ে’। পুরো স্টেডিয়াম তখন দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছিল এই সাহসী মানুষদের।

সংবর্ধনায় আরও উপস্থিত ছিলেন জরুরি সেবাদানকারী আইসিইউ প্যারামেডিক, রয়্যাল প্রিন্স আলফ্রেড ও সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসকদল, লাইফসেভার ও স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা। এদের অনেকেই ছিলেন অফ-ডিউটিতে, তবুও ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মানুষের জীবন বাঁচাতে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার অ্যালেক্স কেয়ারি ও ক্যামেরন গ্রিন মাঠ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আহমেদ ও চায়াকে করতালি দিয়ে সম্মান জানান।আহমেদের সাথে সংবর্ধনায় আরও উপস্থিত ছিলেন জরুরি সেবাদানকারী আইসিইউ প্যারামেডিক, রয়্যাল প্রিন্স আলফ্রেড ও সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসকদল, লাইফসেভার ও স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা।

স্টেডিয়ামের ঘোষক বলেন, ‘এই ভয়াবহ ঘটনায় আমাদের কমিউনিটির জন্য যারা জীবন বাজি রেখে সেবা দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আজ আমরা একত্রিত। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’ জাতীয় সংগীতের পর আহমেদ আল-আহমেদ, চায়া দাদোন ও অন্যান্য প্রথম সাড়াদানকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্রীড়ামন্ত্রী স্টিভ কামপার এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ।

অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আহমেদদের স্বাগত জানান শেষ টেস্ট খেলতে নামা ব্যাটসম্যান উসমান খাজা। তিনিসহ পুরো দল একে একে এগিয়ে এসে সাহসী মানুষগুলোর সঙ্গে করমর্দন করেন। অ্যাশেজের মতো মর্যাদাপূর্ণ টেস্ট ম্যাচের আগে এমন মানবিক শ্রদ্ধাঞ্জলি শুধু খেলাধুলার নয়, বরং সাহস, সংহতি ও মানবতার এক শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেয় বিশ্বজুড়ে।