শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্রকে হত্যা, ৩ আসামি গ্রেপ্তার

শরীয়তপুরের আলোচিত খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত শেষে শরীরে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মাদারীপুর র‌্যাব-৮ ও কিশোরগঞ্জ র‌্যাব-১৪ যৌথ অভিযানে কিশোরগঞ্জের একটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আজ রবিবার (৪ ডিসেম্বর) মাদারীপুর র‌্যাব ক্যাম্পে প্রেস ব্রিফিং করবে বলে জানায় র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭) ও সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্প কমান্ডার পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, শরীয়তপুরের আলোচিত খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় মামলার তিনজন আসামিকে কিশোরগঞ্জ জেলার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কিশোরগঞ্জ থেকে মাদারীপুর র‌্যাব ক্যাম্পে আনা হচ্ছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হন ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকার বাসিন্দা ওষুধ বিক্রেতা ও মোবাইল ব্যাংকি বিকাশের এজেন্ট খোকন দাস। এ সময় তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর ও মুখে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টায় চালায়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরবর্তীতে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার শরীরের ক্ষতস্থানে অস্ত্রপচার করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান, রাব্বি মোল্লা ও পলাশ সরদারের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি। খোকন চন্দ্র দাসের মরদেহ রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় এনে দাহ করা হয়।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, আসামি তিনজনকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। হস্তান্তর করলে বলা যাবে তাদের কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।