খুলনা-২ আসনে চার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে বেশি সম্পদশালী সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। মঞ্জুর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে হেলালের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৯৮ লাখ টাকার।
তবে এই দুই প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্ত্রীরা বেশি সম্পদশালী। মঞ্জুর স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ৫ শত ৫৫ টাকার সম্পদ রয়েছে। অন্যদিকে হেলালের স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। নির্বাচনে দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছেন তাদের হলফনামা। হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা)। এখান থেকেই খুলনা বিভাগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জন প্রার্থী বৈধ হয়েছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ প্রার্থীর মধ্যে সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। এ ছাড়া ভোটারদের অভিমত, এই দুই কোটিপতির মধ্যেই মূলত লড়াই হবে।
হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি। পেশা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। বছরে তার আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৭০ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। এর মধ্যে তার নগদ অর্থ ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩০৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪৭ টাকা, ২৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের মোটরযান, ৫২ হাজার টাকার গহনা, ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রিক পণ্য রয়েছে তার। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪০ লাখ টাকার।
তার স্ত্রীর এক কোটি ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকার অস্থাবর এবং এক কোটি ৯০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ৫ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমএসএস পাস। তার পেশার আইন পেশা। বছরে তার আয় প্রায় ৯ লাখ টাকা। আইন পেশা ও শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আর দেশের বাহির থেকে মাঝে মাঝে অনুদান বাবদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে তার ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং অকৃষি জমি ও দালান মিলিয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
এ ছাড়া ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা তার নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে বর্তমানে আনুমানিক ৪৬ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ৪০ হাজার ৯৪১ টাকা আয়কর দিয়েছেন।