শেষ ওভারে জয়ের জন্য ঢাকার প্রয়োজন ছিল ১০ রান, হাতে ছিল ছয় উইকেট। ব্যাটিংয়ে তখন ঝড়ো ফিফটি করা মোহাম্মদ মিঠুন ও আগের ওভারে চার–ছক্কায় ম্যাচ জমিয়ে তোলা সাব্বির রহমান। কিন্তু চাপের মুহূর্তে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। নিখুঁত কাটার আর ধীরগতির বলে শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান খরচ করে রংপুর রাইডার্সকে এনে দিলেন পাঁচ রানের নাটকীয় জয়।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সন্ধ্যায় বিপিএলের ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১৫০ রানে আটকে দেয় রংপুর। এর আগে ব্যাট হাতে ভরসা হয়ে ওঠেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাঁর ৩৮ বলে করা ৫১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ১৫৫ রান তোলে নুরুল হাসান সোহানের দল।
সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএল ইস্যু ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ঘিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে থাকা মোস্তাফিজ এই ম্যাচে প্রমাণ করেন, চাপ যত বড়ই হোক, নিয়ন্ত্রণটা তাঁর হাতেই। শেষ ওভারে চারটি সিঙ্গেল ছাড়া আর কিছুই আদায় করতে পারেননি মিঠুন–সাব্বির। পুরো ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার।
তবে ম্যাচসেরার পুরস্কারটি উঠেছে মাহমুদউল্লাহর হাতেই। ব্যাট হাতে তাঁর ইনিংসই ছিল রংপুরের ভিত গড়ার মূল চাবিকাঠি। চার ম্যাচে এটি রংপুরের তৃতীয় জয়। সমান পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে, যদিও নেট রান রেটে এগিয়ে রয়েছে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিপরীতে, চার ম্যাচে তৃতীয় হার নিয়ে ঢাকা ক্যাপিটালস অবস্থান করছে পাঁচ নম্বরে।
রান তাড়ায় ঢাকা শুরুটা করেছিল দারুণ। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আবদুল্লাহ আল মামুন পাওয়ার প্লেতেই দলকে এনে দেন ৫৩ রান। সপ্তম ওভারে কাইল মায়ার্সের বলে ২২ বলে ৩১ রান করে গুরবাজ ফিরলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। কিছুক্ষণ পর ১৮ বলে ২০ রান করা আল মামুনও সাজঘরে ফেরেন।
এরপর অধিনায়ক মিঠুন ও সাইফ হাসান ৫৩ রানের জুটি গড়েন। তবে সেখানে মূল ভূমিকা ছিল মিঠুনেরই। ২৭ বলে ৪১ রান করেন তিনি, অন্যদিকে সাইফ ২৪ বলে মাত্র ১৫ রান করে আউট হন। পরে শামীম হোসেন ১০ বলে ১১ রান করে বিদায় নিলে চাপ আরও বাড়ে ঢাকার ওপর।
৩২ বলে বিপিএল ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি তুলে নিলেও দলকে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি মিঠুন। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। ১৯তম ওভারে ১৩ রান এলেও শেষ ওভারে মোস্তাফিজের নিখুঁত বোলিং ঢাকার সব হিসাব পাল্টে দেয়।
এর আগে রংপুরের ইনিংসে শুরুতেই ধাক্কা খায় দলটি। ৫.২ ওভারে ৩০ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ইনিংস সামাল দেন মাহমুদউল্লাহ ও ডেভিড ম্যালান। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ৭৪ রানের জুটি রংপুরকে ম্যাচে ফেরায়। ম্যালান করেন ৩৩ রান। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর শেষ দিকে খুশদিল শাহর ২১ বলে অপরাজিত ৩৮ রানে দেড়শ পেরোয় রংপুর।