ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গড়া ১১ দলের জোটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ৫ (নবীনগর) আসনে অবশেষে কে হচ্ছেন চূড়ান্ত প্রার্থী? এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ নবীনগরের হাট বাজারে, মাঠে-ঘাটে চায়ের স্টলে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আমজাদ হোসেন আশরাফী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) যাচাই বাছাই শেষে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। এরপর থেকে তিনজনই জামায়াত জোটের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার আশা করছেন।
জামায়াত প্রার্থী আবদুল বাতেন দৈনিক দেশ রুপান্তর কে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি একটি সুশৃংখল দল। আগে মানুষের কাছে যতটুকু গ্রহণযোগ্যতা ছিল, বর্তমানে শতগুণ গ্রহণ যোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য দলের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, অন্যান্য দলের চেয়ে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নবীনগরে অনেক বেশি এগিয়ে আছে। সেই হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ৫ আসন (নবীনগর) জামায়াত ইসলামির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে থাকবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি। নবীনগর বাসী নিশ্চয়ই ভুল করবে না তাদের যোগ্য প্রার্থীকে বিজয় সুনিশ্চিত করতে।
এসময় তিনি আরও বলেন, আমি এ পর্যন্ত কোন নির্বাচনে পরাজিত হইনি,ইন শা আল্লাহ এবারো শতভাগ বিজয়ের প্রত্যাশা করি। আপনারা আমার জন্য দোয়া ও সমর্থনে রাখবেন।
অন্যদিকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু বলেন, ইনসাফ, সততা ও মানবসেবা এই তিন ভিত্তিতে রাজনীতি ইসলাম সমর্থন করে। আর আমি সেই ভিত্তিতে আমার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। দরিদ্র পরিবার, মেধাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আমার উপার্জনের একটি অংশ ব্যয় করে আসছি বছরের পর বছর ধরে। সেই কারণে এলাকায় আমার নিজস্ব একটি জনমত ও জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং নবীনগর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিটি এলাকায় শতশত নেতা কর্মী ও সমর্থক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিজের লাভের জন্য এমপি হতে আসি নি, মানবসেবা করছি এবং আরো বড়সড় পর্যায়ে সেবা করতে এমপি প্রার্থী হয়েছি। আমি শতভাগ আশাবাদী ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং আমার জনপ্রিয়তার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে হাতপাখা প্রতীকের পক্ষেই ১১ দলীয় জোট থেকে চুড়ান্ত মনোনয়ন আসবে এবং সকলের সহযোগিতায় এই আসনটি ১১ দলীয় জোটকে উপহার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
আরেক প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আমজাদ হোসেন আশরাফী দেশ রুপান্তর কে বলেন, ২০২২ সালে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছি। ১১ দলীয় জোট থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী হয়েই এলাকাবাসী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সমর্থন পেয়ে চেয়ারম্যান পদে ১ বছর মেয়াদ থাকতেই পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমি একজন আলেম, একজন খতিব, একজন ইসলামি বক্তা এবং স্থানীয় জন প্রতিনিধি হিসেবে সারা নবীনগরে পরিচিত। যেহেতু আলেমদের নিয়ে জোট হয়েছে সেদিক বিবেচনা করলে আমি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিকশা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের মনোনয়ন পাওয়ার দাবিদার।
উল্লেখ্য, এই আসনে আরো দুই হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান (বিএনপি), স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয় সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। ফলে এই আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীসহ ত্রিমুখী ভোট যুদ্ধ হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটারগণ। তবে আরো কিছু দিন পরেই বুঝা যাবে নির্বাচনী হালচাল।