সোনাগাজীতে ৫ মসজিদে গ্রিল কেটে চুরি

ফেনীর সোনাগাজীতে গত ৫ দিনে ৫ টি মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসময় মসজিদের গ্রিল কেটে দানবাক্স, মাইকের ব্যাটারি মূল্যবান সামগ্রীসহ মোয়াজ্জেমের টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। 

গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে ৫ দিনে উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও বগাদানা ইউনিয়নের পাঁচটি মসজিদে এসব ঘটনা ঘটে। একই সময়ে উপজেলার চরদরবশে ইউনিয়নে গরু ব্যবসায়ী শাহ আলমের ১৬টি গরু চুরি সহ আরও একাধিক ইউনিয়নে চুরির ঘটনাও ঘটেছে।

বগাদানা ইউনিয়নের তাকিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হক মানিক জানান, চোরেরা  গত ৪ দিন আগে তাকিয়া বাজোরের কাজি ওসমান শাহ জামে মসজিদের গ্রীল কেটে দানবক্স ভেঙ্গে নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের মনগাজী গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান গত ১ জানুয়ারি মনগাজী বাজার আহমদ সারেং জামে মসজিদের ব্যাটারি চুরি হয়েছে। অজ্ঞাত চোরেরা গভীর রাতের সোলারের ব্যাটরই চুরি করে নিয়ে যায়।

এদিকে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুজাপুর গ্রামের ওয়ালি ভুঞা জামে মসজিদেও তালা ভেঙ্গে ইমাম ও মোয়াজ্জেমের ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে। একই সময়ে কমর আলী খান জামে মসজিদের তালা ভেঙ্গে ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। এছাড়াও গত শুক্রবার গভীর রাতে পূর্ব ছাড়াইতকান্দি গ্রামের গনু মিয়ার বাড়ির দরজা জামে মসজিদের ৫টি দানবক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানায়, শীতকালে সাধারণত চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠনের ঘটনা বেড়ে যায়। এবার চুরি সহ অন্য অপরাধের সাথে গণহারে মসজিদে চুরির ঘটনায় এলাকাবাসী অবাক হয়েছে। তাদের ধারনা গ্রামাঞ্চলে মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে মসজিদ সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বেপরোয়া হয়ে যাওয়াতে বেড়ে গেছে সামাজিক অপরাধ।

বক্তব্য জানতে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিককবার কল দিওে তিনি রিসিভ করেননি। পুরে মুঠো ফোনে কথা হয় ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।