চুরির অভিযোগে ধরা, ২০০ রাকাত নামাজে মিলল মুক্তি

গণপিটুনির বদলে ২০০ রাকাত নফল নামাজের শর্তে যুবককে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪২ এএম

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মোবাইল চুরির অভিযোগে এক যুবককে হাতেনাতে আটকের পর গণপিটুনি না দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের এমন সিদ্ধান্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাজারে মোবাইল চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে ঘিরে বাজারে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।

এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ওই যুবককে মারধরের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তাকে গণপিটুনি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয়রা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাকে ভুল থেকে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আটক যুবকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাকে ২০০ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওই যুবক স্বেচ্ছায় নামাজ আদায় করেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাধে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আটক যুবকের বাড়ি মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামে। তবে তার বিরুদ্ধে এর আগে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ থাকলেও এর কোনো আইনগত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, মানবিক কারণে স্থানীয়রা যদি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে পুলিশের করণীয় থাকে না। তবে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে গণপিটুনির পরিবর্তে আইন নিজের হাতে না তুলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত