মোস্তাফিজ ২/৩২, মাহমুদউল্লাহ ১৯ বলে ৩০; ম্যাচসেরা এবার কে

চার ম্যাচে তিনটি করে জয় নিয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে বিপিএলের শীর্ষে ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। ফলে রংপুর রাইডার্সের সামনে ছিল টেবিলের চূড়ায় ওঠার দারুণ সুযোগ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই সুযোগ দুই হাতে লুফে নিল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৯ রান তোলে চট্টগ্রাম রয়্যালস। জবাবে ৭ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে রংপুর রাইডার্স।

রংপুরের জয়ের নেপথ্যে আবারও বড় ভূমিকা রাখেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। লোয়ার অর্ডারে নেমে ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। ম্যাচের চাপের মুহূর্তে খুশদিল শাহকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষদিকে খুশদিল ফিরলেও অপরাজিত থেকেই দলকে জয় বন্দরে পৌঁছে দেন মাহমুদউল্লাহ।

১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ১৯ রানে লিটন দাসকে হারায় রংপুর। ডেভিড মালানকে সঙ্গে নিয়ে ধাক্কা সামাল দেন কাইল মায়ার্স। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের ৫৯ রানের জুটি ভাঙে মায়ার্সের বিদায়ে। ২৫ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে ফেরেন ক্যারিবিয়ান এই অলরাউন্ডার। এরপর ৮০ থেকে ১১৭—মাত্র ৩৭ রানের ব্যবধানে মায়ার্স, তাওহীদ হৃদয় ও মালানকে হারিয়ে চাপে পড়ে রংপুর। তবে সেই চাপ ঠান্ডা মাথায় সামলে নেন মাহমুদউল্লাহ।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন উইকেটকিপার ব্যাটার অ্যাডাম রসিংটন। ৪১ বলে খেলা তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। বিপিএলে অভিষেক ম্যাচে নজর কাড়েন পাকিস্তানের হাসান নাওয়াজও—৩৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংসে দলের স্কোর এগিয়ে নিতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

রংপুরের বোলিংয়ে আলো ছড়ান মোস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। চলতি আসরে পাঁচ ম্যাচে তাঁর উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৯-এ। বিপিএলের সব আসর মিলিয়ে মোস্তাফিজের মোট উইকেট এখন ১১৪টি—দ্বিতীয় স্থানে থাকা তাসকিন আহমেদের সঙ্গে উইকেটের ব্যবধান মাত্র পাঁচ। 

আজ মোস্তাফিজ বা মাহমুদউল্লাহ নয়, ম্যাচ সেরা হয়েছেন কাইল মায়ার্স।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল রংপুর রাইডার্স। এক ধাপ নেমে দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ছয় ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট। আর বিপিএলে প্রথমবার অংশ নেওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস এখনো জয়ের দেখা পায়নি—তারা রয়েছে টেবিলের তলানিতে।