ছাত্রদল কর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ শিবিরের পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে

প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই  ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ক্যাম্পাসে। কিন্তু এর মধ্যেই ছাত্রলদের একজন বৈধ প্রার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়,ছাত্রদলের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইদুজ্জামান সাঈদী ক্যাম্পাসে ভোট দিতে প্রবেশ করলে তাকে ছাত্র শিবিরের জবি শাখার সাবেক সভাপতি ও জকসু নির্বাচনে শিবিরের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা আসাদুল নানান প্রশ্ন করে। সেই শিক্ষার্থী ভোটার কিনা বা কিভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলো এই প্রশ্ন করে আসাদুল তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে লাইভ করে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী দুইজনকেই প্রক্টর অফিসে নিয়ে এলে  সাংবাদিকের প্রশ্ন জবাবে শিবিরের পর্যবেক্ষক আসাদুল বলেন,আমি ভাইকে জিজ্ঞেস করেছি ভাই পর্যবেক্ষক হিসাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে কিনা। উনি বললো ভোটার হিসাবে ঢুকেছে। উনি ৮ম ব্যাচ। আমি জিজ্ঞেস করলাম ৮ম ব্যাচ কিভাবে ভোটার হয়।নরমালি ১৪ ব্যাচ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আছে।

তিনি আরও বলেন আমি উনার ভোটার আইডি স্ক্যান করি কিন্তু পাই নি। প্রার্থীকে জেরা করে লাইভ করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন,এইটা আমার ভুল হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাইদুজ্জামান সাঈদী বলেন, আমি  বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের একজন কর্মী। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে পড়াশুনা চালিয়ে করতে পারি নি। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে আমি আবার পড়াশোনা শুরু করেছি। আমি আজ ভোট দিতে আসলে আমাকে আটকানো হয়,জেরা করা হয়। আমি বলেছি আমার লিস্টে নাম আছে। একটু সময় দেন আমি দেখাচ্ছি। কিন্তু উনি আগেই আমাকে অবৈধ বলে লাইভে চলে চান।"

ছাত্রদলের জবি শাখার সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, আমরা খবর পাই আমাদের বৈধ ভোটারকে হয়রানি করা হয়। খবর পেয়ে প্রক্টর অফিস যাই। পরে আসাদ কে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শাস্তি দিয়ে তার পর্যবেক্ষক কার্ড জব্দ করে।"

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড.তাজাম্মুল হক বলেন, আমরা অভিযোগ শুনেছি। আমরা নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলে জানাচ্ছি, তারা যে ব্যবস্থা নিবে তাৎক্ষণিক আমরা সেই ব্যবস্থা নিবো।