ফেনীতে এনসিপির ৫ নেতার পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র ফেনী জেলা শাখার পাঁচ নেতা পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি জানান তারা।

পদত্যাগ করা পাঁচজন হলেন- এনসিপি ফেনী জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুলাই যোদ্ধা ওমর ফারুক শুভ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাবু, সদস্য আজিমুল হক, জোনায়েদ হোসেন ও নুরে আজিম।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, আপাতত তারা কোনও দলেই যোগ দিচ্ছেন না এবং সাধারণ জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওমর ফারুক শুভ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিপি মধ্যপন্থার রাজনীতি করবে বলে আমাদের প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা তাদের সেই নীতি আদর্শ থেকে সরে এসেছে। আমরা দীর্ঘদিন এক সঙ্গে কাজ করেছি। এখন স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছি। পদত্যাগের কপি এনসিপির জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

আবদুর রহিম নামে এক এনসিপি নেতা তার পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেন, আমি দীর্ঘদিন আপনাদের দলের একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে কাজ করেছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মধ্যপন্থার রাজনীতি করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে (এনসিপি) নিজস্ব মতাদর্শ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। ও নীতিগত দিক বিবেচনায়, আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি অর্থাৎ, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। একই পদত্যাগ পত্রে অপর চার নেতা স্বাক্ষর করে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী জেলা এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক  বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি আমরা শুনেছি, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, ওমর ফারুক শুভ ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানকে স্বপদে বহাল করার আশ্বাস দিয়ে চাঁদা দাবির ১৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে জেলা জুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে প্রতারণা, চাঁদাবাজির মামলায় ফেনী মডেল থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।