টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ গুনে গুনে ঠিক ১ মাস পর। ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান। তবে উগ্রপন্থি হিন্দু সংগঠনগুলোর হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে বাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতে জাতীয় দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় এখনো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভেন্যু অনিশ্চিত। এমন অবস্থায় বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া অলরাউন্ডার সাইফ উদ্দিন জানিয়েছেন, খেলা যেখানেই হোক বাংলাদেশ খেলতে প্রস্তুত।
সিলেটে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খেলায় মঙ্গলবার ছিল বিরতি। তবে অনুশীলন করেছেন বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়রা। ঢাকা ক্যাপিটালস দলের হয়ে খেলা সাইফ উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে অসুবিধা হবে না, ‘আমরা যে কোনো ভেন্যুতে খেলতে প্রস্তুত থাকি। যেহেতু কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার মতো কন্ডিশনে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে এসেছি, তাই আমাদের অ্যাডজাস্ট করতে সুবিধা হবে।’ আইপিএল থেকে বাদ পড়া নিয়ে মোস্তাফিজ নিজে একদমই হতাশ নন বলে জানান সাইফউদ্দিন, ‘খেলা শেষে ওর সঙ্গে ডাইনিংয়ে বসলাম। আমরা যতটা চিন্তিত বা হতাশ ছিলাম, ওকে দেখে মনে হলো না ও মোটেও তেমন। ও সবসময় গান শুনে রিল্যাক্স থাকে’।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া আরেক পেসার তানজিম হাসান সাকিবও মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন, ‘আইপিএল থেকে ওনাকে কেন সরানো হলো বা কেন এমন হলো এটা আসলে আমরা জানি না। রাজনৈতিক ইস্যু থাকতে পারে, তবে ক্রিকেটে রাজনীতি না আসাই ভালো। আমরা প্লেয়ার হিসেবে আইপিএল খেলার ইচ্ছা রাখি এবং সেই হিসেবেই নাম দিই। পরের বছর কী হবে সেটা এজেন্ট এবং দেশের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।’
কিছু কিছু গণমাধ্যমের খবর, বাংলাদেশ দলকে রাষ্ট্রীয় অতিথি পর্যায়ের নিরাপত্তা (ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পরিভাষায় জেড ক্যাটাগরি সিকিউরিটি) দেওয়া হবে বলে বিসিসিআই থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, ‘না’ এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই অনুমান থেকে অনেক কিছু বলছে।’ মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারটিও আইপিএল কর্মকর্তারা গণমাধ্যম থেকে জেনেছেন, এমনটাই খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ‘আমরা নিজেরাই ব্যাপারটা গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি। কোনো আলোচনা হয়নি। বাইরে থেকে কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি’ এমনটাই জানিয়েছেন আইপিএলের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ পর্যায়ের একজন বিসিসিআই কর্মকর্তা।
আইপিএল থেকে বাদ পড়ার কারণে মোস্তাফিজের নিলামে ওঠা ৯ কোটি ২০ লাখ রুপির কী হবে, আদৌ এই অর্থ মোস্তাফিজ পাবেন বা আংশিক পাবেন কি না এই নিয়েও চলছে কাটাছেঁড়া। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী নিলাম থেকে দলে নেওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আইপিএল শুরুর আগে ১৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হয়। দলে নেওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি কোনো খেলোয়াড়কে ছেঁটে ফেললে সেই খেলোয়াড় পুরো অর্থ পাবেন। কেউ চোট পেয়ে ছিটকে গেলেও পুরো অর্থ পাবেন। আইপিএল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ‘আইপিএলের পারিশ্রমিক বীমাকৃত থাকে। সাধারণত, বিদেশি খেলোয়াড়ের বেলায় কেউ যদি দলে যোগ দেওয়ার পর চোটগ্রস্ত হয় কিংবা আসর চলাকালে চোটগ্রস্ত হয় তাহলে ফ্র্যাঞ্চাইজি পুরো টাকা দেয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানি ৫০ শতাংশ টাকা বহন করে।’ মোস্তাফিজের বেলায় এসব কোনো শর্তই প্রযোজ্য হচ্ছে না। তাই মোস্তাফিজকে খুব সম্ভবত খালি হাতেই ফেরাবে আইপিএল। তবে আইপিএলের দরজা বন্ধ হলেও একই সময়ে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান সুপার লিগের দরজা খুলে যেতে পারে তার জন্য। পিএসএল-এর অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
মোস্তাফিজের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘ব্যাটসম্যানরা সাবধান, কারণ এখন নতুন যুগে ফিজ হবে।’ পিএসএলে নতুন দুটো ফ্র্যাঞ্চাইজি যোগ হবে, এরপর হবে প্লেয়ারস ড্রাফট।