অবশেষে ধরা পড়ল দিপু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ও ঘটনার নেতৃত্বদানকারী ইয়াছিন আরাফাতকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন। গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার দক্ষিণ হবিরবাড়ি এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, ইয়াছিন আরাফাত পাশের কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরদিন দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা থানায় মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত পরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় ফ্যাক্টরির গেট এলাকায় স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করা হয়। এরপর দিপুকে হত্যার পর রশি দিয়ে মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্ব দেন ইয়াছিন আরাফাত।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ইয়াছিন আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় ১২ দিন তিনি পলাতক ছিলেন। এ সময় ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি সুফফা মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও শুরু করেন।

পুলিশ আরও জানায়, দিপু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ২১ আসামির মধ্যে ১৮ জনকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নয়জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।