আমরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেই, পরে আফসোস করি না: স্টিভ স্মিথ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ জিতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতিতে অ্যাশেজ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্টিভ স্মিথ। সিডনিতে সিরিজের শেষ টেস্টে স্পিনার না নেওয়ায় বিতর্ক হলেও এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই তার। অজি অধিনায়কের মতে, দল সিদ্ধান্ত নেয় বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে, পরে বসে আফসোস করার জন্য নয়। বরং এই সিরিজ জয় অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তিরই প্রমাণ।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পঞ্চম টেস্টে স্পিন যে প্রত্যাশার চেয়েও বড় ভূমিকা রাখবে, তা আগে থেকে পুরোপুরি আঁচ করতে পারেননি স্মিথ। অথচ শেষ দিনে তিনি নিজেই ইংল্যান্ডের খণ্ডকালীন অফস্পিনার উইল জ্যাকসের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে যান। পার্টটাইম অফস্পিনার বিউ ওয়েবস্টারও হ্যারি ব্রুককে এলবিডব্লিউ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন, যদিও তিনি নিজেই স্বীকার করেন, এখন আর নিয়মিত স্পিন অনুশীলন করেন না।

এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলে কোনো ফ্রন্টলাইন স্পিনার না রাখা নিয়ে বিতর্ক হয়। নাথান লায়নের চোটের পর দলে ডাকা হলেও টড মারফিকে খেলানো হয়নি। ম্যাচ জয়ের পর স্মিথ বলেন, ‘এখন তো আমরা জিতেছি, তাই সিদ্ধান্তটা সঠিকই মনে হচ্ছে। যদি না জিততাম, তাহলে হয়তো অনেক প্রশ্ন উঠত। আমাদের ধারণা ছিল, ফাটল দ্রুত খুলবে আর রাফ ততটা প্রভাব ফেলবে না। বাস্তবে সেটা একটু আলাদা হয়েছে।’

স্মিথ আরও বলেন, ‘আমাদের ব্যাটিং লাইনআপ ছিল খুব গভীর। দশ নম্বরে এসে মিচেল স্টার্ক ব্যাট করেছে। প্রথম ইনিংসে বিউ নয় নম্বরে নেমে সত্তর রান করে আমাদের ভালো অবস্থানে পৌঁছে দেয়—এগুলোই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এখানে খেলার ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এবারের উইকেট সেরা। নতুন বলে সহায়তা ছিল, ভালো ব্যাট করলে রান করা গেছে, আবার শেষ দিকে ফাটলও বেশ কাজে লেগেছে।’

এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে বারবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স খেলেছেন মাত্র এক টেস্ট, লায়ন দুটিতে, আর জশ হ্যাজলউড খেলেননি একটিও। ফলে মাইকেল নেসার তিনটি টেস্টে সুযোগ পান। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে পার্থে উসমান খাজা চোট পাওয়ার পর, যখন ট্রাভিস হেড ওপেনিংয়ে নেমে পুরো সিরিজে ৬২৯ রান করেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি সেঞ্চুরি। তাছাড়া অধিনায়ক পরিবর্তনের কোনো প্রভাবই পড়েনি দলের ওপর।

সতীর্থদের নিয়ে গর্ব করে স্মিথ বলেন, ‘এটাই আমাদের শক্তি। দলে যাকেই আনা হয়েছে, সে নিজের কাজটা করেছে। বিউ এই ম্যাচে রান করেছে, উইকেট নিয়েছে। ফিল্ডিংয়েও আমরা দারুণ ছিলাম। একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে ফিল্ডিং আমাদের গর্বের জায়গা, আর এই সিরিজে সেটাই বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আমরা সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবে করি। ম্যাচ শেষে বসে বলি না, এটা করা উচিত ছিল, ওটা করা উচিত ছিল। সব সময় ঠিক হয় না, কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত