সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় সঞ্চয় নিয়ে উধাও এনজিও প্রতিষ্ঠান আরসিডিপি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করেছে রুরাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (আরসিডিপি) নামের একটি হায় হায় কোম্পানি। অভিযোগ উঠেছে উক্ত এনজিও স্থানীয় গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করে রহস্যজনকভাবে ঘা ঢাকা দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন কমপক্ষে প্রায় ৪০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে ঐ প্রতিষ্ঠানটি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে উপজেলার দশধরী গ্রামে একটি ভবন ভাড়া নিয়ে এনজিওটির অফিস স্থাপন করা হয়। পরিপাটি ও আকর্ষণীয় সাজে অফিসটি তৈরি করে বিভিন্ন গ্রামে গ্রুপ গঠন করে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় হাতিয়ে নেয়। 

সঞ্চয় জমা দেওয়া সদস্যদের জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঋণ বিতরণ করা হবে। তবে গত মঙ্গলবার কয়েকজন সদস্যের সন্দেহ হলে তারা দশধরী গ্রামে গিয়ে অফিসটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হলে জানা যায়, এর আগেই সংশ্লিষ্টরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে জনমনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উপজেলা পরিষদের একেবারে কাছাকাছি এলাকায় অফিস খুলে কিভাবে একটি ভুয়া এনজিও এভাবে কার্যক্রম চালিয়ে গেল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।  

ভুক্তভোগী কুড়িকাহনিয়া গ্রামের লকাল মিয়া বলেন, আমার কাছ থেকে সঞ্চয় বাবদ ১১০০ টাকা নিয়েছে। অফিস দেখে বিশ্বাস করেছিলাম। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঋণ দেবে বলেছিল। এখন শুনছি তারা উধাও। বুঝলাম, অতি সহজে বিশ্বাস করাই ভুল ছিল।

একই গ্রামের মিলন মিয়া বলেন, আমার কাছ থেকেও ঋণ দেওয়ার কথা বলে ১১০০ টাকা নিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন জানান, প্রলোভনে পড়ে তিনি পাঁচ হাজার টাকা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, এত বড় ভুল কীভাবে করলাম, এখন নিজেকেই প্রশ্ন করছি।

এমন আরো অনেকেই বলেছে তাদেরকে ঋণ দেয়ার কথা বলে সঞ্চয় নিয়েছে ওই এনজিও প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য আসমা আক্তার বলেন, একদিন আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইউএনও স্যারকে কার্যক্রমের বিষয়টি জানানো হয়েছে কি না। তারা বলেছিল, সুনামগঞ্জ থেকে ফিরে এসে জানাবে। পরদিনই শুনি তারা নাকি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।  

অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বিকাশ রঞ্জন রায় সরকার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলা সদরে প্রশাসনের নাকের ডগায় অফিস খুলে একটি হায় হায় কোম্পানি কিভাবে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিল পালিয়ে গেল তা আসলে ভাবার বিষয়। 
 
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।