খুলনা-৫ আসন

গোলাম পরওয়ারের সম্পদ ১ কোটির বেশি, আলি আসগরের ৫৬ কোটি

খুলনা-৫ আসন (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) থেকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই শীর্ষ প্রার্থীর সম্পদ ও আয়ের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে। 

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগর লবির মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৬ কোটি টাকার বেশি, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের সম্পদ প্রায় ১ কোটি টাকার কিছু বেশি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামী আন্দোলনসহ চারজন প্রার্থী বৈধ হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তবে ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বিসিবির সাবেক সভাপতি এবং খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলি আসগর লবির মধ্যে।

হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগর লবির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক এবং পেশা ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১০ টাকা। তার অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা।

বর্তমান বাজারমূল্যে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৬ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা, বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৪০ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকা, মোটরযান ২ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৪ টাকা, স্বর্ণ ৩০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১২ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ২ লাখ টাকা।

এছাড়া তার ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে অকৃষি জমি ও বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট অন্তর্ভুক্ত। তার স্ত্রীর নামে বর্তমান বাজারমূল্যে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকারও বেশি সম্পদ রয়েছে। আলি আসগর লবির নিজের দায় রয়েছে ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর দায় ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে খুলনা ও ঢাকায় দায়ের করা ছয়টি মামলায় খালাস, প্রত্যাহার ও কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তিনি ২০০১ সালে খুলনা-২ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমকম (অ্যাকাউন্টিং)। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী হলেও পূর্বে শিক্ষকতা করেছেন। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৩৩ টাকা। এর মধ্যে নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা রয়েছে। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এছাড়া তার স্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকা। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা। তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৩৩০ টাকা।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে খুলনা ও ঢাকায় মোট ৪৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা কোয়াশড এবং বাকি মামলাগুলো থেকে তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি ২০০১ সালে খুলনা-৫ আসন থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দুই প্রার্থীর আয়-সম্পদ ও আর্থিক অবস্থানের মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান, যা ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।