ছেলে পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি গোপন রেখে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য ছিলেন বাবা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সেশনের এ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চবির মেরিন সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে অংশগ্রহণ করেছেন ভর্তি পরীক্ষায়।
নিয়মানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় নিজ সন্তান, ভাই-বোনসহ নিকটাত্মীয়রা অংশগ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। এছাড়া কোর কমিটির কোনো সদস্যের নিকটাত্মীয় পরীক্ষায় অংশ নিলে সেটা ইউনিট কো-অর্ডিনেটরকে জানাতে হয়। তবে অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হয় চবির এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এ ইউনিটের অধীনে থাকা ৪টি অনুষদ—বিজ্ঞান অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ এবং মেরিন সাইন্স এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন ও অনুষদভুক্ত বিভাগের সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটি গঠিত হয়। চবি উপাচার্য কোর কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কো-অর্ডিনেটর হিসেবে ছিলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া।
কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ, প্রশ্ন মডারেশন, প্রশ্নপত্র ছাপানো ও বিতরণ করার দায়িত্ব কমিটিতে থাকা ডিনদেরকে দেওয়া হয়। মেরিন সাইন্স অনুষদের ডিন হিসেবে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট এসব দায়িত্ব অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের ওপর ন্যস্ত হয়। ভর্তি পরীক্ষার সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো এই চারটি ধাপ, যা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়।
ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোর কমিটির কোনো সদস্যের নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কো-অর্ডিনেটরকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে নিজেকে পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করে নিবেন। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন ও পরীক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের নিকট কোর কমিটির পক্ষ থেকে একটি নিয়োগপত্র পাঠানো হয়। এতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনার কোন নিকট আত্মীয় যেমন- ভাই, বোন, স্ত্রীর/স্বামীর আপন ভাই, বোন ও মেয়ে, ভ্রাতৃবধূ, ভগ্নিপতি, স্ত্রী, স্বামী, ভাই/বোনের সন্তান, পুত্রবধু, জামাতা, চাচা/জ্যাটা, মামা/মামী, ফুফা/ফুফু, খালা/খালু, আপন চাচাত/মামাত/ফুফাত/খালাত ভাই-বোন এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করিলে তাহা নিয়োগপত্র গ্রহণের পূর্বে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানাইতে হইবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র মতে, এ ইউনিটে ১ হাজার ৯৩টি সাধারণ আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৮৭ হাজার ৬৯৪ জন শিক্ষার্থী। এতে আবেদন করেন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের নিজের সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু নিজের সন্তান যে ভর্তি পরীক্ষা দিবেন, এই তথ্যটি তিনি পরীক্ষার কো-অর্ডিনেটরকে জানান নি।
জানতে চাইলে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত এ বিষয়টি জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের যোগাযোগ করুন। আমার চেয়ে তারা ভালো জানবে। এ বিষয়টি উপাচার্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন শিক্ষকের নিকটাত্মীয় যেমন ছেলে, মেয়ে, ভাই, বোনসহ যাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন কাজে অংশ নিতে পারবেন না। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিবেন।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ নিয়ম রয়েছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনুসৃত এ বিধিমালা ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হয়।
চলতি শিক্ষাবর্ষে এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় নিজের সন্তান অংশ নেওয়ায় ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। গেল শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম কিবরিয়া। এছাড়া বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান, ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার সন্তান ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেন।
জানতে চাইলে পদাবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সন্তান এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে বলে ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে আমি নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন সাইন্সেস এর অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘কারো কোনো নিকটাত্মীয় যদি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তাহলে তিনি পরীক্ষার কাজে অংশ নিবেন না এটাই সাধারণ রীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এই রীতি অনুসরণ করে থাকেন। যদি কেউ এই রীতি অনুসরণ না করেন তবে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত।’
নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নের মতো গোপনীয় ও সংবেদনশীল কাজে সম্পৃক্ত না থেকে যদি পরীক্ষার হল পরিদর্শনসহ অন্যান্য কাজে অংশ নেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই বলে জানিয়েছেন চবির রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কাজ যদি কেউ করে থাকে, তাহলে বিষয়টি শোভনীয় ছিল না। আমার নিজ সন্তান যদি পরীক্ষায় অংশ নিত, তাহলে একজন শিক্ষক হিসেবে আমি এ ধরনের কাজ থেকে দূরে থাকতাম। তবে প্রশ্ন সংক্রান্ত কোনো কাজে তিনি যুক্ত না থাকলে, এতে কোনো অসুবিধা নেই।’
এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন, ছাপানো এবং বিতরণ এই চারটি গোপনীয় ধাপ সম্পন্ন করার জন্য কোর কমিটির ডিনদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কো-অর্ডিনেটর ও চবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এ ইউনিটের প্রশ্ন প্রণয়ন, ছাপানোসহ প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়গুলোর দায়িত্ব কোর কমিটির ডিনদের ওপর ন্যস্ত ছিল। তবে আমি নিয়ে একা দায়িত্ব নিয়ে গোপনীয়ভাবে এ দায়িত্ব পালন করেছি।’
নিজের সন্তান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নেওয়ার পরেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করার কারণে এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও অনুষদভুক্ত বিভাগের সভাপতিবৃন্দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সাথে সম্পৃক্ত ডিন ও বিভাগের সভাপতিদের নিয়ে একটা মিটিং ডাকা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরীক্ষার কো-অর্ডিনেটর ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম কিবরিয়া। এই মিটিংয়ে অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে। মিটিংয়ে অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন না। এসময় বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত ডিন ও বিভাগের সভাপতিবৃন্দ নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। কো-অর্ডিনেটর ড. গোলাম কিবরিয়াকে বিষয়টি সমাধানের জন্য জানানো হয়।
এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রনয়ণসহ গোপনীয় কাজগুলোতে মেরিন সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনকে সম্পৃক্ত করা হয় নি বলে জানিয়েছেন কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. গোলাম কিবরিয়া। এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় খাদ্য সংক্রান্ত কমিটিতে অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে চবির আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, আইসিটি সেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কোনভাবেই জড়িত নেই এবং থাকে না। যেহেতু মেরিন সাইন্স বিভাগের শিক্ষক এবং এ ইউনিটের কোর কমিটির সদস্য তাই আমি পুরো বিষয়টা জানি। প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ বিভিন্ন বিষয়াদি কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়ার তত্ত্বাবধানে অনুষদের ডিনরা দায়িত্ব পালন করেন। তবে অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন কোনভাবেই এ কাজে জড়িত ছিলেন না, আমি এটা শতভাগ নিশ্চিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশন করার মতো যে স্পর্শকাতর ও গোপনীয় ধাপ ছিল তখন অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি ক্যাম্পাসেই ছিলেন না।’
এদিকে ২রা জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল গত ৭ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষায় সর্বমোট ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৯০.৬৫। এতে সর্বনিম্ন পাস নম্বর ছিল ৪০। পরীক্ষায় পাস করেছেন ৫২.৩৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ফেল করেছেন ৪৭.৬০২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এতে দেখা যায় মেরিন সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের সন্তান ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকায় ১৬ হাজার তম পজিশনে রয়েছেন। বিষয়টি একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কোন শিক্ষকের সন্তান যদি পরীক্ষা দেয় তবে তিনি প্রশ্ন প্রণয়ন সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে জড়িত থাকতে পারবেন না। তবে অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন এ কাজে জড়িত ছিলেন কিনা এ বিষয়ে আমি জানিনা।’
পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন। এমনটা জানিয়েছেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে গত ৭ জানুয়ারি থেকে মেরিন সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে ৬ বারের বেশি সময় ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে তাকে কল করা হয় এবং খুদেবার্তা পাঠানো হয়। তবে তিনি মুঠোফোনে আগামী রবিবার সকালে তার অফিসে দেখা করার কথা জানান। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়ে কোর কমিটির একাধিক সদস্যের কাছে মৌখিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল পেতে কেন বিলম্ব:
গত ২ জানুয়ারি সকালে চবির এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় ৭ জানুয়ারি। পরীক্ষার ফলাফল পেতে কেন বিলম্ব হয়েছে বিষয়টি জানিয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, চবি কেন্দ্র ব্যতীত ঢাবি ও রাবি কেন্দ্র থেকে এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র একদিন পরে ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এসে আমাদের হাতে পৌঁছায়। ৪ জানুয়ারি থেকে আমরা স্কেনিং শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, গত বছর ভর্তি পরীক্ষার কাজে যে সফটওয়্যার কোম্পানি দায়িত্ব পালন করেছে তারা এ বছর ভর্তি পরীক্ষার কাজ পায়নি। নতুন একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলাফল তৈরির কাজে আমাদের যে প্রোগ্রামারবৃন্দ ছিলেন তাদের কিছু গাণিতিক ভুল ছিল। গেল বছর এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় গণিত বিষয়ে সর্বমোট ২৫টি প্রশ্নের বিপরীতে ২৫ নম্বর বরাদ্দ ছিল। প্রতি প্রশ্নের উত্তরের বিপরীতে নির্ধারিত ছিল এক নম্বর। ভুল উত্তরের জন্য কাটা হতো ০.২৫ নম্বর। চলতি শিক্ষাবর্ষে গণিত বিষয়ে প্রশ্নপত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে ২০টি প্রশ্নের বিপরীতে ২৫ নম্বর বরাদ্দ ছিল। প্রতি প্রশ্নের উত্তরে নির্ধারিত ছিল ১.২৫ নম্বর। ভুল উত্তরের জন্য কাটা হয় ০.৩০ নম্বর। নতুন সফটওয়্যার কোম্পানি গেল বছরের হিসাবকে আদর্শমান ধরে তারা ফলাফল প্রস্তুত করে। আমরা পুনরায় নিরীক্ষা করার সময় এই ভুলটি ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, সফটওয়্যার কোম্পানির এই ভুলটি সংশোধন করে আমরা নতুন ফলাফল তৈরি করি। ফলাফল প্রস্তুতি করেই আমরা ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছি। এই ভুলটি সংশোধনের জন্য আমাদের এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।