সৌম্য ৪৩ বলে ৫৯, ওয়াসিম ৩৫ বলে ৬০; স্ট্রাইকরেটেই পার্থক্য গড়ে দিলেন আমিরাত অধিনায়ক

কোনোভাবেই যেন গেঁড়ো ছিঁড়তে পারছে না নোয়াখালী এক্সপ্রেস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটে একের পর এক হারতে হারতে টানা ছয় ম্যাচ হেরে গেছে তারা। যার ফলে সবার আগে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায়ও দলটি।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দুপুরের ম্যাচে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নোয়াখালীর দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্যে ৬ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। 

পাঁচ ম্যাচে রাজশাহীর এটি চতুর্থ জয়। পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে তারা। সব ম্যাচ হেরে তলানিতে নোয়াখালী।

পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছেন প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসে ব্যাটে ঝড় তোলা মোহাম্মদ ওয়াসিম। আরব আমিরাতের এই অধিনায়ক ২৯ বলে করেছেন ফিফটি, ৩৫ বলে ৬০। তানজিদ তামিমকের সাথে ওপেন করতে নাম ওয়ামিম চারটি বাউন্ডারি আর ছক্কায় ১৭১.৪২ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন। অথচ তার চেয়ে ৮টি বল বেশি খেলা নোয়াখালীর ওপেনার সৌম্য সরকার ১৩৭ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ৫৯। 

ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে মোহাম্মদ ওয়াসিম। ছবি: দেশ রূপান্তর

আবু জায়েদ রাহির এক ওভারে দুই চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারলেও ২০ বলে ২১ রানের বেশি করতে পারেননি তানজিদ হাসান। তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন দ্রুত। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৪৩ রানের জুটি গড়েন ওয়াসিম। দুর্ভাগ্যজনক তিনি কাটা পড়ার পর মুশফিক (২২ বলে ১৯) ও ইয়াসির আলি চৌধুরি (৬ বলে ৯) ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে রাজশাহী।

তবে বিপদ আর ঘটতে দেননি রায়ান বার্ল ও এসএম মেহেরব হাসান। দুজনের ২৪ রানের জুটিতে জয়ের খুব কাছে চলে যায় রাজশাহী। শেষ পর্যন্ত ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা বার্ল।

নোয়াখালীর পক্ষে ৩টি উইকেট নেন মেহেদি হাসান রানা। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৫১/৫ (সৌম্য ৫৯, নবি ৩৫, দীপু ৩০, রিপন ২/২৭, শান্ত ১/১, মুরাদ ১/২০, বিনুরা ১/৩০)। 
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১৯ ওভারে ১৫২/৬ (ওয়াসিম ৬০, তামিম ২১, মুশফিক ১৯, বার্ল ১৯*, রানা ৩/২৫, নবি ১/২৬, হাসান ১/৩৬)। 
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৪ উইকেটে জয়ী

টানা ৬ ম্যাচ হারল নোয়াখালী

একে একে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টে সবার নিচে রয়েছে বিপিএলের নবাগত দলটি। তবে বিপিএল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড নয়। ২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে টানা সাত ম্যাচ পরাজয়ের পর অষ্টম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল সিলেট রয়্যালস। এখনও সেটিই বিপিএলের কোনো আসরে সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড।
এছাড়া বিপিএলের গত আসরে প্রথম ছয় ম্যাচ হেরেছিল লিটন কুমার দাস, তানজিদ হাসান তামিমদের ঢাকা ক্যাপিটালস। এবার একের পর এক ম্যাচ হেরে ঢাকার সঙ্গী হয়েছে নোয়াখালী। পরের ম্যাচ হেরে গেলেই সিলেটের পাশে বসবে দলটি।

বিপিএলে টানা ৬ ম্যাচ হারের রেকর্ড যাদের

২০১২ - সিলেট রয়্যালস (শুরুর ৭ ম্যাচ)
২০১৬ - বরিশাল বুলস (মাঝে ৬ ম্যাচ) 
২০২৩ - চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (মাঝে ৬ ম্যাচ)
২০২৩ - ঢাকা ডমিনেটর্স (মাঝে ৬ ম্যাচ) 
২০২৩ - খুলনা টাইগার্স (মাঝে ৬ ম্যাচ) 
২০২৪ - দুর্দান্ত ঢাকা (মাঝে ১০ ম্যাচ)
২০২৫ - সিলেট স্ট্রাইকার্স (মাঝে ৭ ম্যাচ)
২০২৫ - ঢাকা ক্যাপিটালস (শুরুর ৬ ম্যাচ) 
২০২৬ - নোয়াখালী এক্সপ্রেস (শুরুর ৬ ম্যাচ)।