ককটেল বিস্ফোরণে তছনছ হওয়া ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় হাত বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বসতঘর থেকে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে ওই বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণে পুরো বসতঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এ ঘটনায় সোহান বেপারী ও নবীন হোসেন নামের দুই যুবকের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও দুই পক্ষের সংঘর্ষে শত শত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত দুইজনকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করা । এঘটনায় এখনোও মামলা হয়নি বলে জানায় পুলিশ।

এদিকে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট বোম ডিসপোজাল টিমের পুলিশ ইন্সপেক্টর শংকর কুমার ঘোষ বলেন, শরীয়তপুরের বিলাসপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় হাত বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পটাশ , গান পাউডার , জদ্দার টিনের কৌটা, মার্বেল , তারকাটা, কসটেপ, পাথরের গুড়ো, ধানের তুষ, পাউডার মেশানোর জন্য ব্লেন্ডারসহ ককটেল তৈরির আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। 

এসময় তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দিয়ে শতাধিক ককটেল তৈরি করা সম্ভব। এসব বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো বিলাসপুরের কোনো নিরাপদ জায়গায় ধ্বংস করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় অন্তত শতাধিক হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।