অপারেশন থিয়েটার ব্যবহৃত হচ্ছে রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়াডের অপারেশন থিয়েটারে দুই বছর ধরে রান্নাবান্না চলছে। প্রতিদিন এখানে গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অপারেশন হলেও কিছু সিনিয়র স্টাফ নার্স থিয়েটারের কক্ষ রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সম্প্রতি রান্নাবান্নার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের সিনিয়র নার্সদের দুজন অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে শীতের পিঠা তৈরি করছেন। অন্যরাও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। ঠিক পাশের কক্ষে চলছে সিজারিয়ান অপারেশন। সেখানেও রোগীর স্বজনদের অবাধ চলাফেরা করতে দেখা যায়।

গত বৃহস্পতিবার এব্যাপারে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটি আগামী ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ডা. জামাল হোসেন, ডা. আদনান আহমেদ ও ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ।

জানা যায়, গত দুই বছর যাবত নিয়মিত রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন নার্সিং সুপারভাইজার ন‚র জাহান, কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম। স্বাস্থ্য ঝুঁকির এই চরম অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত থাকলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে রান্না করে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত আয়োজনেও খাবার পরিবেশন করে থাকেন।

রাকিব নামে রোগীর এক স্বজন বলেন, আমার বোনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে আজ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে শুনছি নার্সরা না কি অপারেশন থিয়েটারে রান্না করেন। এটা কেমন কথা! তাও দুই বছর ধরে এটা চলছে আসছে। এটা ভাবা যায়?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করছেন জেনে ন‚র জাহান নামে একজন নার্স খুব দম্ভ করে বলেছেন, ‘খাইছি-আরও খামু, কনে কিয়া কইরবো দেখা যাবে।
অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এই প্রতিবেদককে এড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্না এ বিষয়ে আরএমও-এর সাথে কথা বলতে বলেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রোকন উদ দৌলা বলেন, ওটির ভেতর রান্নাবান্না! এটা অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে কীভাবে রান্নাবান্না করে? সংক্রমণের অনেক বিষয় আছে এখানে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো সার্জারি) ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটু ঝামেলার মধ্যে আছি। এটা আমাদের দুর্বলতা, আমরা স্বীকার করছি। এ বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখব এবং অবশ্যই ব্যবস্থানেব। আমাদের পাঁচটা দিন সময় দিন। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় রান্না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এ সময় তিনি সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। পরে তাকে এ-সংক্রান্ত ভিডিও দেখানো হলে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি তাৎক্ষণিক হাসপাতালের কর্মচারী মোশারফকে সরেজমিন দেখার জন্য পাঠান। মোশাররফ সেখানে গেলে রান্নার সামগ্রী লুকিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, আমরা শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।