প্রতিটি বিশ্বকাপের আগেই কোনো না কোনো ঘটনা ঘটে, আর সেটার প্রভাব পড়ে: শান্ত

বিশ্বকাপ আসবে আর বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো নাটক হবে না- এমনটা যেন হতেই পারে না। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি- একের পর এক আসরের আগে দেশের ক্রিকেট টালমাটাল হয়েছে নানা বিতর্ক। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও চলছে নতুন নাটক। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলবে কি খেলবে না- পরিস্থিতি এই পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ওপর যে গভীর মানসিক চাপ তৈরি করেছে, তা খোলাখুলিভাবেই স্বীকার করেছেনন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, বাইরে থেকে সবাই দেখানোর চেষ্টা করছেন যে সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু বাস্তবে ক্রিকেটাররা ভেতরে ভেতরে ভীষণভাবে ক্লান্ত ও চাপে আছেন।

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার জেরে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরানো না হলে তারা টুর্নামেন্টে অংশ নাও নিতে পারে। এই পরিস্থিতি ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে বলে ইঙ্গিত দেন শান্ত।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল বলেন, ‘প্রথমেই যদি বিশ্বকাপে আমাদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকান, আমরা কখনোই ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি। গত বছর কিছুটা ভালো খেলেছিলাম, কিন্তু সেখানেও আরও ভালো করার সুযোগ ছিল, যা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু আমার তিনটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি—প্রতিটি বিশ্বকাপের আগেই কোনো না কোনো ঘটনা ঘটে, আর সেটার প্রভাব পড়ে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন আমরা এমনভাবে আচরণ করি যেন কিছুই আমাদের প্রভাবিত করছে না, যেন আমরা পুরোপুরি পেশাদার ক্রিকেটার। আপনারাও বোঝেন—আমরা আসলে অভিনয় করছি। এটা মোটেও সহজ নয়। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করে এসব বিভ্রান্তি পাশে রেখে দলের জন্য পারফর্ম করতে। অবশ্যই ভালো হতো যদি এসব কিছু না ঘটত, কিন্তু অনেক কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

বিশ্বকাপের ভেন্যু যেখানেই হোক, মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার কথাও উল্লেখ করেন শান্ত, ‘সঠিক মানসিকতা নিয়ে যদি আমরা বিশ্বকাপে যাই এবং যেখানেই খেলি, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত কীভাবে দলের জন্য সেরা পারফরম্যান্স করা যায়।’

এদিকে, সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলায় বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের সমালোচনাও করেন শান্ত, ‘খুবই দুঃখজনক। একজন সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটার—যাকে দেখে আমরা বড় হয়েছি—তার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সম্মান প্রত্যাশা করি—সে সাবেক অধিনায়ক হোক, বর্তমান খেলোয়াড় হোক, সফল হোক বা না হোক। একজন ক্রিকেটারের শেষ চাওয়া হলো সম্মান।’