উদ্ভাবক / স্টার্টআপ ক্যাটাগরি
আব্দুর রশিদ সোহাগ একজন উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা, যিনি নগর জীবনের একটি দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবসম্মত সমাধানের মাধ্যমে মোকাবিলা করেছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো ব্যস্ত মহানগরে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট গাড়িনির্ভর যাতায়াতের ফলে সৃষ্ট যানজট, পরিবেশ দূষণ ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমাতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দেশের প্রথম সমন্বিত, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর স্কুল পরিবহন প্ল্যাটফর্ম Pupil School Bus Ltd. GPS ট্র্যাকিং, রিয়েল-টাইম লোকেশন শেয়ারিং, নিরাপত্তা যাচাইকৃত চালক ও সহকারী, শিশু-বান্ধব আসন ব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের জন্য মোবাইল অ্যাপ—এই সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমানে Pupil School Bus Ltd.–এর সেবায় ৪৫টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭,০০০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করছে। এর ফলে একদিকে অভিভাবকদের উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, অন্যদিকে নগরীর রাস্তায় শত শত প্রাইভেট গাড়ির চাপ হ্রাস পেয়েছে।
একটি বাসে একাধিক শিক্ষার্থী পরিবহনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত এলাকাগুলোতে সকাল ও বিকেলের যানজটের সময় গড়ে ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যক্তি উদ্যোগ ক্যাটাগরি
শ্রুতি রানি দে
শ্রুতি রানি দে, একজন দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক, যিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সমাজ ও নগরের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মানবিক সহায়তায় তার অবদান একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
চলতি বছরে তিনি নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন এবং প্রতি সপ্তাহে এলাকা ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নগরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে তিনি প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি ও এর যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কাজ করছেন।
মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে শীত মৌসুমে তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত টিমের মাধ্যমে দুই ঈদে অসহায় মানুষের জন্য ঈদবস্ত্র ও ঈদ বাজার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শিশু অধিকার সুরক্ষায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নিজ এলাকায় তিনি টিমকে নেতৃত্ব দিয়ে ১২টি বাল্যবিবাহ বন্ধে সফল হয়েছেন এবং বর্তমানে শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের পুনরায় স্কুলে ফেরানোর উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্যোশাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ ক্যাটাগরি
Uplift Bangladesh
Uplift Bangladesh গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে একটি ইতিবাচক, অগ্রসর ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে তুলে ধরতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের দর্শকদের কাছে বাংলাদেশের বাস্তব অগ্রযাত্রা, পরিবর্তন ও সম্ভাবনার চিত্র উপস্থাপন করে সংগঠনটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকাগুলোর ক্রমাগত পরিবর্তন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতিকে নিয়মিত ও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরা তাদের কনটেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দিক।
গুলশান, বনানী, হাতিরঝিল, মিরপুর, উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকার পরিবর্তনশীল নগরচিত্র Uplift Bangladesh–এর কনটেন্টে ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে, যা নগর ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাদের ইতিবাচক ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট মানুষের মনে দেশের প্রতি আস্থা ও গর্ববোধ সৃষ্টি করছে।
পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরি
ভাষানটেক স্কুল এন্ড কলেজ
১৯৮০ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ভাষানটেক স্কুল এন্ড কলেজ কেবল শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সচেতনতা বিকাশে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রেখে চলেছে। পরিবেশ সংরক্ষণকে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার অংশ হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিবেশবান্ধব নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ, দেয়ালপত্রিকা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পরিবেশ রক্ষায় র্যালি এবং নিয়মিত জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সবুজ ও দায়িত্বশীল শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে এই প্রতিষ্ঠান।
সামাজিক সংগঠন ক্যাটাগরি
উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি
উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি জ্ঞানচর্চা, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক সংস্কৃতি বিকাশে একটি ব্যতিক্রমী ও অনুকরণীয় সামাজিক সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, সৃজনশীলতা উৎসাহিত করা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অবদানকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে সংগঠনটি নগরের সাংস্কৃতিক ও মানবিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করছে।
লাইব্রেরিটি নিয়মিতভাবে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, জুলাই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ভাষা দিবসের রচনা প্রতিযোগিতা, বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি ‘রত্নগর্ভা মা সম্মাননা’, ‘গর্বিত বাবা সম্মাননা’, ‘স্বপ্নজয়ী নারী সম্মাননা’ এবং কুরআনের হাফেজদের সংবর্ধনার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন ও মানবিক সম্মানবোধকে তুলে ধরছে।
প্রাণী সুরক্ষা ও প্রাণী অধিকার রক্ষা ক্যাটাগরি
প ফাউন্ডেশন (People for Animal Welfare Foundation–PAWF)
শহরের প্রাণী সুরক্ষা ও প্রাণী অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন, আহত ও বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা, প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি মানবিক ও সহনশীল নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় প ফাউন্ডেশনকে (পি এ ডব্লিউ এফ) নাগরিক পদক প্রদান করা হচ্ছে।
এডভোকেসি ক্যাটাগরি
হাওয়া বেগম
হাওয়া বেগম একজন সংগ্রামী ও সাহসী নাগরিক নেতা, যিনি নগরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, জীবনমান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে সবকিছু হারিয়ে তিনি ঢাকায় এসে কড়াইল বস্তিতে বসবাস শুরু করেন। নিজ জীবনের অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি বস্তিবাসীর নানা সমস্যা ও চাহিদা তুলে ধরতে এডভোকেসি কার্যক্রমে সক্রিয় হন। নগর কৃষি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ওয়াশ (ডব্লিউ এ এস এইচ) কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মানুষের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিতে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব সমস্যা, প্রয়োজন ও সম্ভাবনাকে নগর উন্নয়নের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে হাওয়া বেগমের ভূমিকা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
সর্বোচ্চ করদাতা ক্যাটাগরি
নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ, গত অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা কর পরিশোধের মাধ্যমে সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে অবদান রাখায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড–কে সর্বোচ্চ করদাতা ক্যাটাগরি–তে নাগরিক পদক প্রদান ক