বিশেষ আকৃতির কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ‘ইলিশ পেটি’ মিষ্টি। দেখতে ইলিশ মাছের পেটির মতো হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘ইলিশ পেটি’। এই মজার ও স্বাদের মিষ্টি পাওয়া যাবে উপজেলার চিতারবাজার মেইন রোডে অবস্থিত গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে।
রবিবার সকালে গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ঘুরে দেখা যায়, গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের চিতারবাজার শাখায় দোকানটির প্রতিষ্ঠাতা গোবিন্দ কুন্ডুর বড় ছেলে গুরুদাস কুন্ডু আর কোন্দারদিয়া শাখায় ছোট ছেলে গৌরব কুন্ডু দোকান পরিচালনা করছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত দুই দোকানই। থরে থরে সাজানো নানা রকম মিষ্টির সঙ্গে ইলিশ পেটি যেন সবার আগে নজর কাড়ে। দোকানে রয়েছে- ছানার সন্দেশ, রসগোল্লা, চমচম, কালোজাম, দধি, রসমালাই ও মালাই চপসহ প্রায় ১৫ প্রকারের মিষ্টি।
গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের বর্তমান মালিক গুরুদাস কুন্ডুর কলেজ পড়ুয়া ভাই গৌরব কুন্ডু বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১৫-১৬ ধরনের মিষ্টি তৈরি করি। এর মধ্যে সবচেয়ে দামি ইলিশ পেটি। কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করি, আর ২০ থেকে ২২ পিসে এক কেজি হয়। খুচরা প্রতি পিস ৪০ টাকা।
তিনি বলেন, ‘ইলিশ পেটি’ তৈরি হয় নির্ভেজাল ক্ষীর দিয়ে। তাই স্বাদ ও মান দুটিই ভালো।
মালিক গুরুদাস কুন্ডু জানান, যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য অর্ডার নেওয়া হয়। যদিও দোকান গ্রাম এলাকায়, তারপরও প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৮০ কেজি মিষ্টি বিক্রি হয়। দিনের মিষ্টি সেই দিনেই শেষ হয়ে যায়। তাই আগের দিনের মিষ্টি বিক্রি করা হয় না।
পার্শ্ববর্তী চালিনগর গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হক বলেন, বোয়ালমারী সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে কোন্দারদিয়া গ্রাম। শুধুমাত্র গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে ইলিশ পেটি মিষ্টি খাওয়ার জন্যই ওই গ্রামে যাওয়া হয়।
বোয়ালমারী শহরের বাসিন্দা সুমন রাফি বলেন, এই অঞ্চলে ইলিশ পেটি মিষ্টির ব্যাপক চাহিদা। বোয়ালমারী সদরে ওই মিষ্টির দোকানের একটি শাখা করা উচিত, যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠী ইলিশ পেটি মিষ্টির স্বাদ পায়।'
দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা বলেন, গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ইলিশ পেটি খুবই ভালো। উপজেলায় ও বাইরে থেকেও অনেকে কিনতে আসেন।