থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আগামীকাল শুরু হবে প্রথম সাফ উইমেন্স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। সাত দলের এ আসরে বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলের অভিযান শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। সেদিন একই ভেন্যুতে শুরু হবে সাফ ফুটসালের ছেলেদের আসর। এ দুই আসরের প্রস্তুতি সারতে বেশ কিছুদিন ধরেই নারী ও পুরুষ ফুটসাল দল রয়েছে ব্যাংককে। তারা ফুটসালের বিশেষ টার্ফের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন ধীরে ধীরে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ফুটসালের খুব বেশি প্রচলন না থাকায় বাংলাদেশের নারীরাও স্বপ্ন দেখছে ভালো কিছুর। নিজেদের সামর্থ্যরে সেরাটা দিয়ে সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীনরা চেষ্টা করছেন ফুটসালের নিয়মকানুন আত্মস্থ করার।
রবিবার বাংলাদেশ নারী দলের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন অধিনায়ক সাবিনা ও ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমি। ভিন্ন ফরম্যাট হলেও, দীর্ঘদিন পর দেশের জার্সি পড়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত সাবিনা বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমি দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল খেলেছি এবং ফুটসালটা হচ্ছে আমাদের জন্য একেবারেই নতুন। তবে আমাদের বিশ্বাস আছে টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করার এবং দেশের জন্য খেলাটা তো সবসময় গর্বের বিষয় এবং ইনশাআল্লাহ সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’ প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সাবিনা বলেন, ‘প্রস্তুতি আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। আমাদের প্রস্তুতির জন্য খুব অল্প সময় ছিল এবং দলের অধিকাংশ সদস্যই নতুন। তাই এটি আমাদের জন্য শুরুর অংশ। তারপরও বলব প্রস্তুতি ভালো হয়েছে।’
খোদারাহমি বাংলাদেশে ফুটসালের বিস্তারে বড় সম্ভাবনা দেখছেন, ‘এই আয়োজনের জন্য এএফসি, এএফএফ এবং সাফ’কে ধন্যবাদ। বাংলাদেশে নারী দলের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই প্রথম সাফ (ফুটসাল) আয়োজন। আমার মনে হয় সব দলই সমান অবস্থানে আছে, কারণ এটি সবার জন্যই নতুন। খেলোয়াড় নির্বাচনের জন্য আমরা মাত্র এক মাস সময় পেয়েছি এবং আপনারা জানেন যে সব খেলোয়াড়ই মূলত ফুটবলার, কারণ বাংলাদেশে কোনো ফুটসাল নেই।’ এই কোচ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে ফুটসাল প্রসারে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘আমি মিয়ানমারে যখন গিয়েছিলাম, তাতে অবস্থা এখনকার বাংলাদেশের মতোই ছিল। আমি যখন মিয়ানমারে গিয়েছিলাম তখন তাদের র্যাংকিং ছিল ১০৩, এখন তাদের র্যাংকিং সম্ভবত ৬৯ বা ৬৮। আমি খুবই আনন্দিত। শুরুর জন্য সব দেশেরই ভালো পরিকল্পনা এবং ভালো ভিত্তি প্রয়োজন। আমি এই দেশের (বাংলাদেশ) জন্য পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা চাই। আমি আশা করি ভবিষ্যতে সাফ কোয়ালিফিকেশন ধাপ পেরিয়ে বিশ্বকাপে যাবে। আমি আশাবাদী কারণ এখানে সম্ভাবনা আছে। যেমন ধরুন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি এবং ভারতের আরও বেশি। এই সব দেশেই অনেক ভালো সম্ভাবনা আছে, শুধু কিছু পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলটি মূলত গড়ে উঠেছে একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ নারী ফুটবলার নিয়ে। ১৫ জানুয়ারি ভারতের পর ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। এরপর ১৯, ২১, ২৩ ও ২৫ জানুয়ারি তারা যথাক্রমে খেলবে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের সঙ্গে।