যশোরে ৭৪ অবৈধ কাঠের চুল্লি গুড়িয়ে দিল প্রশাসন

যশোরের অভয়নগরে অবৈধ চুল্লি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৭৪টি  চুল্লি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবাধে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে আসছিল প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একটি চক্র। বিভিন্ন বনজ ও ফলদ গাছ কেটে এসব চুল্লিতে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছিল। এসব চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য। একই সঙ্গে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। এ অবস্থায় অবৈধ এসব চুল্লি উচ্ছেদের দাবি ছিল স্থানীয়দের।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার অভিযানে আমরা প্রাথমিকভাবে ৭৪টি চুলা ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরিবেশ দূষিত করে এ ধরণের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। অবৈধ এ ব্যবসা বন্ধে অভিযান অব্যহৃত থাকবে।

স্থানীয় আব্দুস সালাম জানান, চুল্লি মালিকরা কারও কথার তোয়াক্কা করেন না। রাস্তার পাশে কয়লা তৈরির কারখানা স্থাপন করে সারাদিন খোলা জায়গায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছেন। একদিকে বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, অপরদিকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত নানা ব্যাধিতে ভুগছে স্থানীয়রা। এছাড়া গাছের ফল-মুকুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মানববন্ধন করে আসছিলেন স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, তাদের উৎপাদিত কয়লা অভিজাত হোটেল, রড কারখানায় ব্যবহারের পাশাপাশি মশার কয়েল, ধুপকাঠি, জুয়েলারি ও কার্বণ বানানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে তারা বছরে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা লেনদেন করেন।