ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এক ধরনের দিকনির্দেশনা, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া থেকে মুক্ত রাখে। প্রতিযোগিতামূলক জীবনে শুরু থেকেই ক্যারিয়ার প্ল্যান থাকা জরুরি। নিজের দক্ষতা, আগ্রহ ও বাস্তবতার সমন্বয় না ঘটলে অনেক সময় মেধা থাকা সত্ত্বেও সফল হওয়া যায় না।
ক্যারিয়ার পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হলো আত্মপরিচয়। আমি কী করতে পারি, কোন কাজে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, আমার দুর্বলতা ও সফলতা কোথায় এসব প্রশ্নের উত্তর জানা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সময়ের চাহিদা, চাকরির বাজার, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখতে হয়। কারণ আজ যে পেশা জনপ্রিয়, পাঁচ বছর পর তার চাহিদা নাও থাকতে পারে। ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় দূরদৃষ্টি, ধৈর্য এবং বাস্তববাদী চিন্তা একান্ত প্রয়োজন যা একজন মানুষকে শুধু সফলই নয়, আত্মতৃপ্তও করে তোলে। ক্যারিয়ার প্ল্যান দুই ধরনের হতে পারে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি। স্বল্পমেয়াদি ক্যারিয়ার সফলতা সম্পন্ন করতে পারলে দীর্ঘ মেয়াদে ক্যারিয়ারে ভালো করা যায়।
প্ল্যান কখন করবেন
আমাদের ক্যারিয়ার প্রকৃতপক্ষে সেই শৈশব থেকে শুরু হয়। আমাদের ছোটবেলার ক্যারিয়ার প্ল্যানগুলো বাস্তবতার নিরিখে না হয়ে অবচেতন মনে কিংবা অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ঠিক করা হয়েছিল, তাই সেগুলোর দ্রুতই পরিবর্তন ঘটেছে। ধরুন, আপনি পড়েছেন মানবিক বিভাগে, হতে চেয়েছেন ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার। প্রকৃতপক্ষে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া আদৌও সম্ভব নয়। আমরা যখন ভালোভাবে বুঝতে শিখেছি, নিজের দক্ষতা ও ভালো লাগা জানতে শিখেছি, তখন আসলে সুপরিকল্পিতভাবে টেকসই ক্যারিয়ার প্ল্যান করা সম্ভব। অর্থাৎ, আপনি যখন ভালোভাবে নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও ভালো লাগা সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারবেন, তখনই ক্যারিয়ার প্ল্যান করা উচিত।
কেবল বিসিএস ক্যাডার হওয়া, সরকারি চাকরিজীবী হওয়া কিংবা ব্যাংকার হওয়া মানে ক্যারিয়ার বোঝায় না। ক্যারিয়ার হতে পারে ফ্রিল্যান্সিং, সাংবাদিকতা, ক্রিকেট, ফুটবল, উদ্যোক্তা কিংবা ব্যবসা অথবা অন্য কিছু। অর্থাৎ যার যেটা ভালো লাগে। ক্যারিয়ার প্ল্যান করার ক্ষেত্রে নিজের পছন্দে জোর দিতে চেষ্টা করুন।
আপনি যে সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাচ্ছেন, সেটা আপনার ভালো লাগে কি না। দ্বিতীয়ত, আপনি যে বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাচ্ছেন, সেই সেক্টরে আপনার দক্ষতা বা যোগ্যতা আছে কি না? অথবা, ভবিষ্যতে আপনি সেই সেক্টরের জন্য দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন কি না। সর্বোপরি, সেই সেক্টরের সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ কেমন। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে সেখানে ভালো করার সম্ভাবনা কতটুকু।
ভালো করার উপায়
ক্যারিয়ারে ভালো করার সবচেয়ে সহজ ও শক্তিশালী উপায় হচ্ছে নিজের দক্ষতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করা এবং ইতিবাচক চিন্তা করা। কারণ, নেতিবাচকতা মানুষকে পিছিয়ে দেয় বহুগুণ। আপনি যে সেক্টরেই কাজ করবেন বা করছেন, সেই কাজকে ভালো লাগার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ, আপনি যে সেক্টরে কাজ করছেন, সেই কাজ যদি আপনার ভালো না লাগে বা কাজ করতে বিরক্তি বোধ আসে, তাহলে সেই সেক্টরে আপনি কখনো ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন না।
ভালো ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনার সহকর্মী বা টিম মেম্বারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। তাদের প্রতি ভালো মনোভাব পোষণ করা এবং ভালো আচরণ করা। ভালো ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ঘন ঘন চাকরি পরিবর্তন না করা। আপনি যদি কোথাও স্থির হতে না পারেন কিংবা ঘন ঘন চাকরি বা পেশা পরিবর্তন করেন, তাহলে সেখানে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া কঠিন। তাই কোনো চাকরি বা পেশায় প্রবেশ করার আগে কয়েকবার ঠান্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে তারপর ঠিক করুন সিদ্ধান্ত। যেন কিছুদিন পরই সেই চাকরি বা পেশা পরিবর্তন করা না লাগে।
লেখক : ফিচার রাইটার