লিভারপুলের টানা ১১তম জয়ের ম্যাচে নায়ক সোবোসলাই খলনায়কও

এফএ কাপের টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে বার্নসলিকে ৪–১ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ডমিনিক সোবোসলাই—একই সঙ্গে নায়ক ও খলনায়কের ভূমিকায়। শুরুতে অসাধারণ গোল করে দলকে এগিয়ে দিলেও, পরে ভয়াবহ এক ভুলে প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেন এই হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার।

ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে দুর্দান্ত শটে লিভারপুলকে লিড এনে দেন সোবোসলাই। সফরকারী সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেওয়া সেই গোলেই ম্যাচে আধিপত্য দেখাতে শুরু করে স্বাগতিকরা। এরপর ডান দিক থেকে ভেতরে কেটে এসে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জেরেমি ফ্রিমপং।

তবে বিরতির ঠিক পাঁচ মিনিট আগে পুরো চিত্রটাই বদলে দেন সোবোসলাই নিজেই। নিজেদের গোলের সামনে মাত্র ছয় মিটার দূরে অদ্ভুত এক ব্যাকহিলের চেষ্টা করেন তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই বল ফাঁকা জালে ঠেলে দেন বার্নসলির অ্যাডাম ফিলিপস। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২–১।

সোবোসলাই এক অদ্ভুত ব্যাকপাস ছিনিয়ে নিয়ে গোল করেন অ্যাডামস

ভুলের দায় স্বীকার করে ম্যাচ শেষে সোবোসলাই বলেন, “দলের কাছে দুঃখিত। সহজ একটা ভুলে আমরা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। ফুটবলে এমন হয়, আমাদের সামনে এগোতে হবে।”

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেনাল্টি না দেওয়ায় ভাগ্যও সহায় হয় সোবোসলাইয়ের। লিগ ওয়ানের দল হয়েও বার্নসালি ম্যাচে দারুণ লড়াই চালিয়ে যায়। পরিস্থিতি তখনও অনিশ্চিত থাকায় লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট এক ঘণ্টা পার হতেই নামান তারকা শক্তি—ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, হুগো একিতিকে ও ইব্রাহিমা কোনাতে।

এরপরও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ঘুরপাক খেতে থাকে সোবোসলাইকে ঘিরেই। এক প্রান্তে তিনি গোললাইন থেকে ফিলিপসের শট ক্লিয়ার করেন, অন্য প্রান্তে ভির্টজকে গোলের সুযোগ বানিয়ে দেন—যদিও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি জার্মান মিডফিল্ডার।

শেষ পর্যন্ত ভুল শোধ নেন ভির্টজই। ম্যাচের শেষ ছয় মিনিটে একিতিকের পাস থেকে বাঁকানো শটে দূরের কর্নারে বল জড়িয়ে দেন তিনি। যোগ করা সময়ে ভির্টজের ক্রস থেকে সহজ ট্যাপে গোল করে স্কোরলাইন ৪–১ করেন একিতিকে।

স্কোরলাইন বড় হলেও পারফরম্যান্সে পিছিয়ে ছিল না বার্নসালি—লিগ পিরামিডে লিভারপুলের চেয়ে ৫৭ ধাপ নিচে থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত প্রশংসা কুড়িয়েই মাঠ ছাড়ে। কোচ কনর আওয়ারিহান বলেন, “আমি মনে করি আমরা অসাধারণ খেলেছি। শেষদিকে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ওরা একের পর এক শীর্ষ মানের খেলোয়াড় নামিয়েছে। ছেলেরা এমন পারফরম্যান্স দিয়েছে, যা নিয়ে তারা গর্ব করতেই পারে।”

এই জয়ে লিভারপুলের টানা অপরাজিত ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াল ১১–তে। নভেম্বরে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সাঁ জার্মাঁর কাছে হারের পর থেকে আর হারেনি তারা। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির সপ্তাহান্তে অ্যানফিল্ডে ব্রাইটনের মুখোমুখি হবে লিভারপুল।