এমবাপ্পেকে লিভারপুলে নিতে বিমানে ক্লপের দুঃসাহসিক অভিযান!

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

২০১৭ সালে ফরাসি ক্লাব মোনাকোর হয়ে যখন তরুণ কিলিয়ান এমবাপ্পে ফুটবলে ঝড় তুলতে শুরু করেছিলেন, তখনই তার মাঝে আগামীর কিংবদন্তিকে দেখতে পেয়েছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। লিভারপুলের তৎকালীন এই মাস্টারমাইন্ড ফরাসি তারকাকে অ্যানফিল্ডে উড়িয়ে আনার জন্য পর্দার আড়ালে এক অবিশ্বাস্য এবং অতি-গোপন মিশন পরিচালনা করেছিলেন।

জার্মানি জাতীয় দলের হবু কোচ এবং বর্তমানে একটি টিভি চ্যানেলের ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্লপ নিজেই সেই কোটি টাকার ব্যর্থ দলবদলের রোমাঞ্চকর গল্প এবার জনসমক্ষে এনেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে ফ্রান্স সেমিফাইনালে ওঠার পর বোস্টন স্টেডিয়ামের টানেলে এমবাপ্পে ও তার মা ফায়জা লামারির সাথে ক্লপের একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এরপরই তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দামী 'ব্যর্থ ট্রান্সফার' গল্পটি শেয়ার করেন।

রিয়াল মাদ্রিদ বা পিএসজির মতো ধনকুবের ক্লাবগুলোর চোখ পড়ার আগেই এমবাপ্পেকে দলে নিতে চেয়েছিলেন ক্লপ। তার জন্য কোনো সাধারণ অফিসে নয়, আলোচনার টেবিল সাজানো হয়েছিল মাঝ-আকাশে, একটি ব্যক্তিগত বিমানে!

ক্লপ সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন: "আমরা ব্ল্যাকপুল থেকে বিমানে চেপে নিস-এ গিয়েছিলাম। সেখানে এমবাপ্পের পুরো পরিবার আমাদের সাথে একটি প্রাইভেট জেটে চড়ে বসে, যে বিমানটিতে প্রায় ৫টি বেডরুম ছিল!"

টিভি স্টুডিওতে সহ-আলোচকরা যখন অবিশ্বাস্য চোখে তাকাচ্ছিলেন, তখন ক্লপ হাসতে হাসতে নিশ্চিত করেন:

"হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমরা কোনো কমতি রাখিনি। ওটা বিশাল একটা বিমান ছিল। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশের বুকে চক্কর কাটছিলাম, তাদের সাথে কথা বলছিলাম আর দুর্দান্ত সব খাবার উপভোগ করছিলাম। পুরো ব্যাপারটা ঘটেছিল বিমানের ভেতর... কারণ আমরা জনসমক্ষে আসতে পারছিলাম না, পুরো মিশনটা গোপন রাখতে হতো!"

লিভারপুলের কোটি কোটি পাউন্ডের এই বিলাসবহুল প্রজেক্ট এবং ক্লপের আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও গল্পটির শেষটা সুখকর হয়নি রেডসদের জন্য। কারণ শেষ মুহূর্তে আসরে নামে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি। তারা ১৮০ মিলিয়ন ইউরোর এক বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব দিয়ে এমবাপ্পেকে প্যারিসে রেখে দেয়। ক্লপ আফসোসের সুরে বলেন, 'সবকিছুই দারুণ চলছিল, কিন্তু তারপরেই ও প্যারিসে চলে গেল...'

মোনাকোর সেই তরুণ এমবাপ্পে আজ বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে গোল করে তিনি ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টে নিজের ৮ম গোলটি তুলে নিয়েছেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০টি গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে লিওনেল মেসির (২১ গোল) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত