দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

চবিতে পরীক্ষা কমিটিতে থাকা ডিনের বিষয়ে তদন্ত শুরু

দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সাইন্স অনুষদের ডিনের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

চবির মেরিন সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে অংশগ্রহণ করেছেন ভর্তি পরীক্ষায়। ছেলে পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি গোপন রেখে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সেশনের এ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

নিয়মানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় নিজ সন্তান, ভাই-বোনসহ নিকটাত্মীয়রা অংশগ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। এছাড়া কোর কমিটির কোনো সদস্যের নিকটাত্মীয় পরীক্ষায় অংশ নিলে সেটা ইউনিট কো-অর্ডিনেটরকে জানাতে হয়। তবে অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন বিষয়টি কতৃপক্ষকে অবহিত করেননি বলে জানিয়েছেন এ ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া।

এই বিষয়টি নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ পরে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত ৮ জানুয়ারি এই বিষয়টি নিয়ে “চবির ভর্তি পরীক্ষায় ছেলে পরীক্ষার্থী, বাবা ছিলেন পরীক্ষক” শীর্ষক শিরোনামে সর্বপ্রথম অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক দেশ রূপান্তর। পরে গত ৯ জানুয়ারি “ছেলে পরীক্ষার্থী, বাবা পরীক্ষক” শিরোনামে দেশ রূপান্তরের চবি প্রতিনিধি ‘আজিম সাগর’ নামে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরপরই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়।

এই ঘটনায় একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানায় চবির সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্র সংসদ। ৮ জানুয়ারি রাতে সংসদের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ ফারহান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন। কমিটিকে দাপ্তরিক সহায়তা দিতে একাডেমিক শাখার সেকশন অফিসার মোহাম্মদ ইসমাইল হাসান তুরাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে এটা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে চবির ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি তদন্ত কমিটির চিঠি পেয়ে দ্রুতই কাজ শুরু করেছে। আমরা বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি। খুব দ্রুত সময়ে আমরা প্রতিবেদন জমা দিবো।