ফ্রেঞ্চ কাপে বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে শিরোপাধারী প্যারিস সাঁ–জার্মেইনকে (পিএসজি) বিদায় করে দিয়েছে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্যারিস এফসি। সোমবারের এই জয় শুধু চমকই নয়, বরং ক্লাব ইতিহাসে পিএসজির বিপক্ষে প্যারিস এফসির প্রথম জয়—যা আরও স্মরণীয় করে তুলেছে ম্যাচটিকে।
কোপ দ্য ফ্রান্সের রেকর্ড ১৬বারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি এই হারের ফলে ২০১২–১৩ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো শেষ ৩২–এ উঠতে ব্যর্থ হলো। ঘরের মাঠে পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য ছিল পিএসজির, কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্টের মাশুল দিতে হয়েছে তাদের।
ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করে বাজিমাত করে প্যারিস এফসি। দ্রুত কাউন্টার আক্রমণ থেকে বল জালে ঠেলে দেন সাবেক পিএসজি উইঙ্গার জোনাথান ইকোনে। মাত্র এক মাস আগেই তিনি ইউএস রঁ–লেতাপের বিপক্ষে পঞ্চম রাউন্ডে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
ইকোনের এই গোলের পেছনে আছে বাড়তি আবেগও। পিএসজির যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ড ২০১৬–১৭ মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে সাতটি ম্যাচ খেলেছিলেন। পরে লিল ও ফিওরেন্টিনায় দীর্ঘ সময় কাটানোর পর এখন প্যারিস এফসির জার্সিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি—পুরোনো ক্লাবের বিপক্ষেই।
পরিসংখ্যানে ছিল পিএসজির একচেটিয়া দাপট। বল দখলে ছিল ৭০ শতাংশ, গোলের উদ্দেশে শট নিয়েছে ২৫টি—অন্যদিকে প্যারিস এফসির শট ছিল মাত্র চারটি। তবু পার্থক্য গড়ে দেন প্যারিস এফসির গোলরক্ষক ওবেদ নকাম্বাদিও। দুর্দান্ত সব সেভে তিনি একাই ঠেকিয়ে দেন পিএসজির আক্রমণভাগকে।
শেষ পর্যন্ত সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হতাশ পিএসজি, আর ইতিহাস গড়ে উল্লাসে ভাসছে প্যারিস এফসি—ফরাসি কাপের এবারের আসরে সবচেয়ে বড় চমক এনে দিয়ে।