সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, রিমান্ডে ২৬

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও  মোবাইলের মাধ্যমে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৫১ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৬ জনকে দুইদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলাগুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক সোহান মিয়া এই আবেদন করেন। আদালত প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এই রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা জজ আদালতের র্কোট পরিদর্শক জামাল উদ্দিন। তিনি মুঠোফোনে বলেন, গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় ৩৭ জনের মধ্যে ২৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত দুইদিনের মঞ্জুর করেন। বাকি ১১ জনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস জানান, শুক্রবারের পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও  মোবাইলের মাধ্যমে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে আটককৃত ৫১ জনের বিরুদ্ধে শনিবার পৃথক তিনটি মামলা হয়। এরমধ্যে গাইবান্ধা সদর থানায় ৩৭ জনের বিরুদ্ধে একটি, পলাশবাড়ী থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি এবং ফুলছড়ি থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে একটি। গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হান্নান, কেন্দ্র সচিব পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হামিদ কলিম ও কেন্দ্র সচিব ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চি-পাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহিনর আলমসহ সাতজন বাদি হয়ে এই তিনটি মামলা দায়ের করেন। পাবলিক পরীক্ষা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে এসব মামলা দায়ের করা হয়।

শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস আরও জানান, জেলার ৪৩টি কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জেলায়  মোট  ২৭ হাজার ৬৬৬ জন অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ২২ হাজার ৬৭ জন।  এর মধ্যে পরীক্ষা কক্ষে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৫১ জন আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ব্লুটুথ, মাষ্টার কার্ড এবং মোবাইলফোন জব্দ করা হয়।