আবারও দেখা যাবে সালাহ–মানের দ্বৈরথ

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন লিভারপুলের সাবেক সতীর্থ মোহাম্মদ সালাহ ও সাদিও মানে। মিসর ও সেনেগালের এই হাইভোল্টেজ লড়াই শুধু ফাইনালে ওঠার টিকিটের জন্য নয়, এটি দুই মহাতারকার উত্তরাধিকার, অপূর্ণতা ও আধিপত্যের গল্পও।

৩৩ বছর বয়সী সালাহর জন্য এবারের আফকন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২০১৭ ও ২০২১ সালে ফাইনালে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে তার। ২০১৯ সালে ঘরের মাঠে শেষ ষোলোতেই বিদায় নিতে হয়েছে। আর ২০২৩ আসরে চোটের কারণে আগেভাগে ছিঁটকে গেছে মিসর। ২০২৮ থেকে আফকন চার বছর পরপর হওয়ায়, এই আসরটি সালাহর জন্য শিরোপা জয়ের অন্যতম শেষ বড় সুযোগ বলেই মনে করছেন অনেকে।

কোয়ার্টার-ফাইনালে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়সূচক গোলসহ টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন তিনি। আফকনে তার মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১। সালাহ স্পষ্ট করে বলেছেন, 'এই ট্রফিটাই আমি সবচেয়ে বেশি চাই। প্রায় সবকিছু জিতেছি, কিন্তু এই শিরোপাটার জন্যই আমার অপেক্ষা।'

অন্যদিকে সেনেগালের অধিনায়ক মানে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সালাহর ওপর এগিয়ে। ২০২১ আফকন ফাইনাল ও ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাই- দুটিতেই পেনাল্টি শুটআউটে মিসরকে হারিয়ে সেনেগালকে গৌরব এনে দিয়েছেন মানে। এবারের টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে ১ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

সেনেগালের শক্তি কেবল মানেতে সীমাবদ্ধ নয়। উইংয়ে ইলিমান এনদিয়ায়ে ও ইসমাইলা সার, সামনে নিকোলাস জ্যাকসনের মতো আক্রমণভাগের গভীরতা তাদের বাড়তি শক্তি দিচ্ছে। গোলকিপার এদুয়ার মেন্ডি ও ডিফেন্সে কালিদু কুলিবালির অভিজ্ঞতাও বড় ভূমিকা রাখছে।

লিভারপুলে একসঙ্গে পাঁচ মৌসুম কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও প্রিমিয়ার লিগ জিতলেও মাঠে মাঝে মাঝে দু’জনের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা আলোচিত হয়েছে। ক্লাব ফুটবলে সালাহ বেশি গোল করলেও, জাতীয় দলের দ্বৈরথে মানে বারবার শেষ হাসি হেসেছেন। এবার মরক্কোর তাঞ্জিয়ারের গ্র্যান্ড স্টাদে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে দুই দলের আবেগ, অভিজ্ঞতা ও কৌশলের লড়াই দেখার অপেক্ষা।